‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির অবসান হোক

‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির অবসান হোক

‘ভিআইপি’ বিলাসিতায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভিআইপি সংস্কৃতি নিয়ে। ভিআইপির জন্য অপেক্ষারত ফেরির দায়িত্বরতদের পা-হাত ধরেও ফেরি চালাতে ব্যর্থ হন তিতাসের মা। অ্যামবুলেন্সে থাকা সন্তানকে বাঁচাতে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯-এ কল দিয়েও কোন সুরাহা মেলেনি। তিন ঘন্টা অপেক্ষার পর ভিআইপি আসার পর তিতাসের আর নদী পার হতে হয়নি। তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় তিতাস। নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় রওনা দেন স্বজনরা। সেদিন রাত ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সটি যখন মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে পৌঁছায় তখন একটি ফেরি ওই ঘাটেই ছিল। কিন্তু যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মন্ডলের গাড়ি যাবে-ডিসির এ নির্দেশনা থাকায় ফেরি ছাড়তে দেরি করে ঘাট কর্তৃপক্ষ। তিন ঘন্টা পর রাত ১১টায় যুগ্ম সচিব আসার পর ফেরি ছাড়লেও মাঝ নদীতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

 একজন যুগ্ম সচিব ‘ভিআইপি’ হন কীভাবে? তাকে যদি এই অগ্রাধিকার দিতে হয় তাহলে বাংলাদেশে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে একই মর্যাদা দিতে হবে। আর তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য গণপরিবহনে অপেক্ষায় রাখতে হলে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তিনি কথিত ভিআইপি হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছে একজনের জীবনের মূল্য এতটা তুচ্ছ হয় কীভাবে? নামে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হলেও তারা নিজেদের প্রজাকূলের প্রভু বলে মনে করেন-এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। প্রশ্ন হলো, ভিআইপি নামের মহাক্ষমতাধরদের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি আটকে রেখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অধিকার তারা কোথায় পেলেন? রাজতন্ত্রে একমাত্র রাজা-রাণীরাও যে অধিকার ভোগ করেন না। তিতাসের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণ হলো, এই ভিআইপি সংস্কৃতি কতটা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। সরকার এ হত্যাকান্ডের দায় নির্ধারণ করে তথাকথিত ভিআইপি প্রভুদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করবেন এটিই প্রত্যাশা।