ভালুকায় টার্কি মুরগি পালনে সফল রহমত আলী

ভালুকায় টার্কি মুরগি পালনে সফল রহমত আলী

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :  ময়মনসিংহের সর্বদক্ষিণের উপজেলা শিল্পাঞ্চলের ছোঁয়ায় ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ভালুকা। একসময় কৃষিই ছিল এ উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর পথ। বর্তমানে শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে খামারের প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালন করে খামারিরা লাভাবান হলেও টার্কি মুরগি পালন করে খুব দ্রুতই সফলতার মুখ দেখছেন। বিদেশী পাখি প্রজাতির টার্কি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ভালুকার খামারিরা। পোল্ট্রি মুরগির চেয়ে টার্কি মুরগির রোগ-ব্যাধি কম, মাংস খেতে সুস্বাদু ও চাষ লাভজনক হওয়ায় এই মুরগি পালন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খামারিরা বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায়, বাড়ির ছাদে, পতিত জমিতে শেড তৈরি করে ছোট বড় ঘর তৈরি করে গড়ে তুলছেন টার্কি মুরগির ফার্ম।

উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে, মো: রহমত আলীর তানিয়া টার্কি ফার্ম এ শত শত মুরগি খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত। এই খামারে ছোট টার্কি মুরগি ৪ শতাধিক ও বড় মুরগি ৫শতাধিক। ১ একর জায়গায় গড়ে উঠা এ খামারে দু‘টি বড় শেড, ঘাস কাটার মেশিন, ডিম ফুটানোর দুইটি ইনকিউভেটর রয়েছে। এখানে ডিম ফোটানো থেকে শুরু করে বাচ্চা উৎপাদন, পালন, বাণিজ্যিক ক্রয়-বিক্রয় চলছে। খামারে গিয়ে মালিক রহমত আলীকে মুরগি পরিচর্যায় ব্যস্ত দেখা যায়। তিনি জানান, গত ৮ মাস পূর্বে ২০টি বড় ও ৩০টি বাচ্চা টার্কি মুরগির নিয়ে শুরু করেন এই খামার। এখন ৮/৯ শত মুরগির রয়েছে তার খামারে। দেড় লক্ষ টাকা খাটিয়ে এ পর্যন্ত ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করেছেন প্রায় তিন লক্ষ টাকা।

 এখন বিক্রির উপযোগী মুরগি রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার। তিনি টার্কি মুরগি পালন করে সফলতার মুখ দেখছেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানান। এর আগে লেয়ার মুরগির খামার করে প্রথমদিকে লাভের মুখ দেখলেও পরবর্তীতে ক্ষতির আশঙ্কায় তা বাদ দিয়ে টার্কি মুরগির খামার স্থাপন করেন। জানা যায়, টার্কি মুগরগির খুব বেশি রোগ-বালাই নেই। তবে রাণীক্ষেত, কলেরা, বার্ডফ ও ফক্স এর আগাম ভ্যাক্সিন দিতে হয়। খাবার হিসেবে প্রধানত পতিত জমিতে উৎপন্ন দেশী-বিদেশী ঘাস ও ঘাস জাতীয় সবজি এবং মাঝে মধ্যে বাজারের খাবার দেয়া হয়। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে ভালুকায় দিন দিন টার্কি পালন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় টার্কি ফার্ম করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এ অঞ্চলের খামারিরা। এর ফলে উপজেলার অনেক বেকার যুবক-যুবতীরাও এখন ঝুঁকছেন এ ব্যবসা দিকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: হেলাল আহমেদ জানান, টার্কি আমাদের দেশে একটি নতুন প্রজাতি। বেশ কিছুদিন ধরে টার্কি মুরগি পালন শুরু হয়েছে। উপজেলার জামিরদিয়া, বাটাজোর, কাচিনা, মোহনা, সিডস্টোরসহ বেশকিছু এলাকায় ছোট-বড় খামার তৈরি হয়েছে। ১০/১৫টি বড় খামার ও ২০/২৫টির মতো ছোট খামার গড়ে উঠেছে। কম খরচে অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে টার্কি মুরগি চাষে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আর এ কারণে খামারিরা এখন এ ব্যবসায় বেশি ঝুঁকছেন। তিনি আরো জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সকল টার্কি খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিয়মিত সহযোগিতা করা হয়।