ভর্তি বিড়ম্বনা

ভর্তি বিড়ম্বনা

এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উচ্ছ্বসিত হলেও সে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে উৎকণ্ঠাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।  চলতি বছর ১০ শিক্ষা বোর্ড থেকে ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা মানেই টেনশন, বাড়তি চাপ। এ অবস্থা থাকে ফল প্রকাশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। গত রোববার সে ফল প্রকাশিত হয়েছে। ভালো ফলধারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দের পাশাপাশি তাদের চোখে মুখে দেখা দিয়েছে টেনশন। এবারের টেনশন কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে। কারণ, যে পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, মান সম্মত কলেজগুলোতে সে পরিমাণ আসন নেই।

রাজধানী ঢাকার নামিদামি ৩৯টি কলেজ সহ সারা দেশের বিভাগীয় ও জেলা সদর মিলিয়ে মানসম্মত প্রায় ৮০টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন সংখ্যা ৭৫ হাজারের মতো। অথচ এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। সে হিসাবে প্রায় ৩৫ হাজার সর্বোচ্চ মেধাবী ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। যদিও সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন, এবার কোনো আসন সংকট থাকবে না। শতভাগ মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা সবাই ভালো কলেজে ভর্তির আশা করলেও সাধ ও সাধ্যের সীমাবদ্ধতায় তাদের এক বড় অংশ হতাশার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগে শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি বেড়েছে পাসের হার। কিন্তু সময়ের চাহিদা পূরণে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়েনি। বরং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পাসকে কেন্দ্র করে কলেজের নামে গড়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করছে। আমরা মনে করি, শিক্ষার মান বাড়াতে কলেজগুলোর মানোন্নয়নে নজর দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে সত্যিকারের যোগ্যরা যাতে ঠাঁই পায় তাও নিশ্চিত করা দরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন কোনোভাবেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, লক্ষ্য রাখতে হবে সেদিকেও।