ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও দিনটা আরেকটু ভালো হতে পারতো

ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও দিনটা আরেকটু ভালো হতে পারতো

ব্যাটসম্যানরা তো ম্যাচের রং নষ্ট করে দিয়েছেন আগেই। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দলকে করে দিয়েছেন কোণঠাসা। বোলাররাও চোখ ধাঁধানো কিছু করতে পারলেন না প্রথম দিনে। ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশের ১৫০ রানের জবাবে ১ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত। তারা পিছিয়ে আছে ৬৪ রানে।

ব্যাটসম্যানরা তো মান সম্মান ডুবিয়েছেনই। সেই তুলনায় বোলাররা খুব খারাপ করেছেন, বলা যাবে না। বরং ফিল্ডাররা আরও একটু তৎপর হলে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকতে পারতো বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমে খুব ধীরেসুস্থে শুরু করে ভারত। বাংলাদেশের দুই পেসার এবাদত হোসেন আর আবু জায়েদ রাহীকে বেশ সম্মান দিয়েই খেলেছেন ভারতীয় দুই ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল আর রোহিত শর্মা।

প্রথম ৭ ওভারে রান উঠে মাত্র ১৪টি। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে দুর্দান্ত এক আউটসুইংগারে রোহিত শর্মাকে (৬) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান রাহী। এরপর চেতেশ্বর পূজারা আর আগারওয়াল বেশ দেখেশুনে খেলেছেন।

তাড়াহুড়ো করে রান তোলার প্রবণতা ছিল না। বাংলাদেশের বোলাররা তাই খুব বেশি বিপদে ফেলতে পারেননি তাদের। তবে দিনের শেষ সময়ে আরও একটি উইকেট পকেটে পুড়তে পারতেন রাহী।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহ আদায় করা এই পেসার ২৪তম ওভারে ফের বল হাতে নিয়েই সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে আগারওয়ালের ক্যাচ হাতে নিয়েও ফেলে দেন ইমরুল কায়েস।

দিনশেষে ওই ক্যাচ মিসের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৩২ রানে জীবন পাওয়া আগারওয়াল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। সাথে চেতেশ্বর পূজারা ব্যাটিংয়ে ৪৩ রান নিয়ে।

আবু জায়েদ রাহী ৮ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। ১১ ওভারে ৩২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ইবাদত হোসেন। মার খেয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, ৭ ওভারে দিয়েছেন ৩৩ রান।

এর আগে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৫০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ৫ উইকেটে ১৪০ থেকে আর ১০ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারায় টাইগাররা।

ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে প্রথম থেকেই ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। ইশান্ত শর্মা, উমেষ যাদব, মোহাম্মদ শামির সঙ্গে ঘূর্ণি নিয়ে হাজির ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। ফলে, অনায়াসেই ভারতের এই বোলিং লাইনআপের সামনে বালির বাধের মত ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। শামি ৩টি, যাদব, ইশান্ত এবং অশ্বিনরা নেন ২টি করে উইকেট।

ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়েছিল প্রথম থেকেই। মাঝে ছোট ছোট দুটি জুটি বিপর্যয় কিছুটা কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু আখেরে লাভ কিছুই হয়নি। একের পর এক উইকেট পড়েছেই।

যা একটু লড়াই করতে পেরেছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহীম। তবে মুমিনুলের ৩৭ আর মুশফিকের ৪৩ রানের ইনিংস দুটি দলকে বড় লজ্জা থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। লিটন দাস করেন ২১ রান। বাকিদের কেউ বিশের ঘরও ছুঁতে পারেননি।