ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা

ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম ও ত্রুটিমুক্তভাবে পরিচালনা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী গত ২০ জানুয়ারি সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোঃ ইসরাফিল আলম উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ম কানুন সঠিকভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে সংশোধন করেছে। আইনের সংশোধনীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দায়িত্ব কর্তব্য ও কর্ম পরিধি স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং আইনে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও তা প্রতিপালনের জন্য পরিচালনা পর্ষদকে দায়বদ্ধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো নেতিবাচক কারণে গণমাধ্যমের খবর হচ্ছে বেশি। ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি, মন্দ ঋণ, খেলাপি ঋণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঋণ আদায়, খাতওয়ারি ঋণ প্রদান, সেবার বৈচিত্র্য এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারিসহ তাদের সম্পদ ও দায়ের অনুপাত বিশ্লেষণ করলে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠছে।

প্রভাবশালী নেতাদের অনৈতিক সুপারিশ রক্ষা করতে গিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থ আদায় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়মনীতি লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। আবার খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যয় অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে বললে কম বলা হবে। প্রকৃত অর্থে দেশের অর্থনীতির জন্য বিসংবাদ সৃষ্টি করেছে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি খেলাপি ঋণের কশাঘাত, এর মধ্যে অবলোপন করা ঋণের প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ব্যাংকে যে টাকা সঞ্চিত থাকে তার মালিক সাধারণ মানুষ। এ অর্থ লুটপাট বন্ধে সরকারকে অবশ্যই কড়া হতে হবে। সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে সংশোধিত আইনের উল্লেখ করেছেন তাতে আর্থিক খাতে লুটপাটকারীরা যেন আইনানামলে আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।