ব্যবসা সূচকে আট ধাপ এগোনো

ব্যবসা সূচকে আট ধাপ এগোনো

সুখবর এসেছে ব্যবসার সূচকে। সহজে ব্যবসার সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আর বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ১৬৮ তম। কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা কঠিন, তার ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় এই সূচক। এ ছাড়া সহজে ব্যবসা করার সূচক তৈরির ক্ষেত্রে দেখা হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার আনুষঙ্গিক পরিবেশের বিভিন্ন দিক। বিশ্বব্যাংকের এই সূচকের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগ কতটা আসবে। বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে উন্নয়নের কাঙ্খিত স্তরে পা রাখতে চায়। এ জন্য দরকার দেশে ব্যাপক হারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে এসেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই সূচকে আফগানিস্তান রয়েছে ১৭৩তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। বৈশ্বিক সূচকে ভারতের অবস্থান ৬৩তম। আর সূচকের শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড।

এরপর রয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং আর ডেনমার্কের মতো দেশগুলো। অস্বীকার করা যাবে না যে, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসা সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিনিয়োগ বাড়লে তৈরি হবে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা। যেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। যা ব্যক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সব ক্ষেত্রের অগ্রগতিকেই ত্বরান্বিত করবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জিত না হলে ব্যবসা- বাণিজ্যে পিছিয়েই পড়তে হবে। আর এরূপ ঘটলে তা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হয়ে দেখা দেবে। এক বছরে ব্যবসার সূচকে আট ধাপ এগোনো দুনিয়ার যে কোনো দেশের জন্য বড় অগ্রগতি। তবে এতে আত্মপ্রসাদে ভোগার অবকাশ নেই। আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়াতে হবে।