‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স’ গ্রাউন্ড করে রাখার নির্দেশ ৫১ দেশের

‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স’ গ্রাউন্ড করে রাখার নির্দেশ ৫১ দেশের

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮’ বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৭ আরোহীর সবাই নিহত হওয়ার জেরে ইতোমধ্যে ওই মডেলের সব প্লেনের চলাচল বন্ধ (গ্রাউন্ডেড) রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বের ৫১টি দেশ। একইসঙ্গে আরও ১১টি দেশ তাদের এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা এক বা একাধিক ‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮’ প্লেন ওঠা-নামা বন্ধ করছে।

যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে দেশগুলোর সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ৫১টি দেশে ‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮’ মডেলের প্লেনগুলো সব ধরনের চলাচল থেকে বিরত থাকবে।

ইতোমধ্যে এ মডেলের প্লেনের চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে ভারতের সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রণালয় বলছে, সব সময়ের মতোই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করছি।

এয়ারলাইন্সগুলো এমনই বলছে, সবার আগে যাত্রী এবং ক্রু-দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কয়েকটি এয়ারলাইন্স মডেলটির ওপর ‘আস্থা’ রেখে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

যে ৫১টি দেশ ‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮’ প্লেন ওঠা-নামা বন্ধ করেছে, সেগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, চীন, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, মিশর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসভো, কুয়েত, লাতভিয়া, লেবানন, লিথুয়ানিয়া, মালয়েশিয়া, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সার্বিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ আরও কয়েকটি দেশ।

আর যারা মডেলটির চলাচল বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলো হলো- আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, ইথিওপিয়া, ফিজি, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এসব দেশের কিছু এয়ারলাইন্স এ মডেলের প্লেনের চলাচল বন্ধ করে রেখেছে ইতোমধ্যেই।

রোববার (১০ মার্চ) সকালে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার বোলে বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট ‘ইটি৩০২’ উড্ডয়ন করার ছয় মিনিটের মধ্যেই ৮টা ৪৪ মিনিটের দিকে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইটের ১৫৭ আরোহী নিহত হন।

নতুন মডেলের বিধ্বস্ত প্লেনটি মাত্র চার মাস আগে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হয়। গত বছরের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত লায়ন এয়ারের প্লেনটিও একই মডেলের ছিল। ওই দুর্ঘটনায় ১৮৯ আরোহীর মৃত্যু হয়।

পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ মডেলের দু’টি প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে রয়েছে এটির উৎপাদনকারী কোম্পানি বোয়িং। এ দুই ঘটনার মধ্যে যোগসাজশও দেখছে অনেকে। তবে ঘটনা দু’টির মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ নেই বলে দাবি বোয়িংয়ের।

এদিকে, বোয়িংকে এ মডেলের প্লেনের আরও উন্নয়ন করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মডেলটিকে গ্রাউন্ড করবে না বলেও জানিয়েছে।