বৈশাখী মাতাল হাওয়া

বৈশাখী মাতাল হাওয়া

তাহমিনা আকতার পাতা :‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ কবির সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে আমরা সবাই বৈশাখকে জানাই আমন্ত্রণ। দিন - মাস বছর পেরিয়ে বাংলার বুকে, পৃথিবীর বুকে বৈশাখ আসে ফিরে ফিরে। আমাদের প্রিয় বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সব মানুষের জন্য। সেই সাথে দক্ষিণা খোলা জানালায় বৈশাখী মাতাল হাওয়া বরণ করি বাংলা নতুন বছরে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে জীবন ও মানবতার জয়গানে। আবহমান কাল ধরে বাংলার ঘরে ঘরে বাংলা নববর্ষ উৎসব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভাস্বর হয়ে আছে। এ এক চিরন্তন আনন্দের বিষয়। আনন্দের কথা হলো বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পহেলা বৈশাখের আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন । গবেষকদের দৃষ্টিতে এই সত্যটা বেরিয়ে এসেছে যে, পহেলা বৈশাখের মতো ধর্মনিরপেক্ষ, ইহজাগতিক ও সার্বজনীন এমন উৎসব দ্বিতীয়টি আর নেই। গবেষকদের দৃষ্টিতে এসত্যটাও বেরিয়ে এসেছে যে, এই আনন্দের পাশাপাশি এর গোপন গভীরে চলছে কিছু নীল নকশা ও পুঁজিবাদ সমাজের সমাজপতিদের লোলুপ দৃষ্টির নিষ্ঠুর শত্রুতার করুণ আগ্রাসন। সেই সাথে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সাথে বাড়ছে বৈষম্য ও দ্বন্দ¦।

 যতো বৈষম্য, দ্বন্দ্বই থাক তবু আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি বৈশাখ মানে আনন্দ আর আনন্দ, চারিদিকে শুধু মেলা, বৈশাখী মেলা। আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতির সঙ্গে মেলার মিল খুব বেশি। বাংলা নববর্ষের আনন্দে সারাদেশে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে বৈশাখ মানে শুধু মেলা আর আনন্দ নয় বৈশাখ মানে ঝড়ো হাওয়া, প্রচন্ড দাবদাহ। আছে কাল বৈশাখী ঝড়। তারপরও বলবো- ‘বৈশাখ তুমি কি কেবলি ঝড়োয়া হাওয়া, নাকি অন্য রকম আনন্দ অনুভূতি।’ বৈশাখ শুধু ঝড়োয়া হাওয়াই নয়, বৈশাখ আমাদের মেঠো পথের দ’ুধারের সবুজ গাছে দেয় দোল। কচি ধানের নতুন পাতায় জাগায় শিহরণ, রমনার বটমূলে প্রাণে লাগা অফুরান জাগরণ। ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসবের মাধ্যমে নতুন খাতা খুলে নতুন বৎসরের যাত্রা শুরু করে। যেন মঙ্গলময় হয় জীবন। আমাদেও আছে- ভোরের শুভ্রতা নিয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রার পদচারণা।

 যে মঙ্গল শোভা যাত্রা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। বৈশাখ একদিকে যেমন অপরিসীম আনন্দের উচ্ছ্বাসে উদ্ধেলিত করে, তেমনি বৈশাখী আনন্দকে নিয়ে আজকাল চলে নানা রাজনীতি, কালো থাবার হীনম্মন্যতা, নারী লাঞ্ছনার মতো জঘন্য অপরাধ। বৈশাখ আয়োজনে কুচক্রীদের ষড়যন্ত্রের কিছু অতীত স্মৃতির দুঃখজনক ঘটনা আমাদের মন থেকে এখনও মোছেনি। সে স্মৃতি জঙ্গি হামলা, বোমা বর্ষণ, ছোপ ছোপ রক্তের হোলি খেলায় নাগরিক ও গ্রামীণ জনপদ স্তব্ধ বিমর্ষ হয়। নারকীয় অপশক্তি আমরা চাই না। চাইনা অসভ্য সন্ত্রাসী হামলা। মনে রাখতে চাই আমরা সত্যিই বাঙালি। বাংলার শ্বাশত অপরূপা রূপ আমাদের গর্বিত হাতিয়ার। এ বিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা চিরকালই জয়ী হয়েছে এবং হবে। বৈশাখী শুভেচ্ছা হয়ে দোলা লাগাক সব মানুষের মনে। সেই সাথে সবাই এক হয়ে গাইতে চাই- ‘আমার বাংলাকে সাজাতে চাই পাখির নীড়, ধানক্ষেত আলপাড়, আর মেঘের পালকের মতো, আমার বৈশাখকে সাজাতে চাই এই বাংলারই মতো।’
লেখক ঃ আইনজীবি
জজ কোর্ট, ঢাকা
০১৭১১-৮২৫৫৫৪