বেড়েছে নারী-শিশু নির্যাতন

বেড়েছে নারী-শিশু নির্যাতন

দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে কোন রকম প্রতিকারহীনভাবে। এবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাসে মমতা আক্তার (১৯) নামের এক শ্রমিককে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার ভোর রাতের এ ঘটনায় বাসটির চালককে গ্রেফতার ও বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বেড়েছে। ঘরে-বাইরে কোথাও যেন নিরাপদ নয় দেশের নারী ও শিশুরা। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে যে, ২০১৯ সালে সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের বছরের চেয়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্রের আসক এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে আসকের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক হাজার ৪১৩ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ নারী এবং ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮১৮। একই সঙ্গে নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও যৌন হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে।

আরও উদ্বেগজনক যে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাও বেড়েছে। ২০১৯-এ শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিখোঁজের পর মোট ৪৮৭ শিশু নিহত হয়েছে। আগের বছর নিহত হয় ৪১৭ শিশু। এ কথা মনে রাখা দরকার, ধর্ষণের মতো ঘটনা-ঘৃণ্য মানবিকতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের চুড়ান্ত পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। সঙ্গত কারণেই এরকম ঘৃণ্য ও ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা রোধে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইন আছে। কিন্তু তারপরও অপরাধ কমছে না। এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং সার্বিক অর্থেই আশঙ্কারও বটে। রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। যার কারণে সামাজিক অবক্ষয় এত চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। কারণ সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকেই সমাজের ভেতরে নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে। মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অপরাধ প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সুস্থ সমাজ গড়তে হবে। আর এই সমাজ বিনির্মাণের পথে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে নতুন করে কেউ অপরাধে উৎসাহী না হয়।