বেশি করে গাছ লাগান

বেশি করে গাছ লাগান

সমগ্র বিশ্বের ভৌগলিক আয়তনের এক-তৃতীয়াংশই বনাঞ্চল। বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, কীট পতঙ্গ থেকে শুরু করে বৃহদাকার জীব জন্তুর আবাসভূমি এ বনাঞ্চলসমূহ। মানব সমাজকে অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে সহায়তা করা ছাড়াও পরিবেশ দূষণমুক্ত করে রাখে। উপরন্তু জলবায়ুর উপাদান যেমন উষ্ণতা, বর্ষণ, আর্দ্রতা ইত্যাদির ওপর প্রভাব বিস্তার করে অরন্যগুলো আবহাওয়া তথা জলবায়ু বহু পরিমাণে মানব সমাজের অনুকূল করে তোলে। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কম করেই নয়, অন্যভাবেও সহায়তা করে। প্রকাশিত দুটি তথ্যেই এর প্রমাণ মেলে। ২.৫ একর বিশিষ্ট একটি বনাঞ্চল বায়ু মন্ডলের প্রায় ৪টন পরিমাণের ধুলা শোষণ করতে পারে। এ ছাড়া একটি ঘন অরন্য ভূমি বছরে প্রতি একর জমিকে গ্রাস করতে পারে এমন ০.১৬ টন সালফার ডাই অক্সাইড অপসারণে সমর্থ হয়।

আমরা সবাই জানি সালফার ডাই অক্সাইড এক ধরনের দুষিত গ্যাস। শব্দ দূষণ রোধের ক্ষেত্রেও অরণ্যের ভূমিকা রয়েছে। গাছ শব্দের তীব্রতা ১০ থেকে ১৫ ডেসিবল কমাতে পারে। এ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহবান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। আমাদের বনভূমির পরিমাণ কমছে দিন দিন। সত্যি বটে, গত ক’বছরে বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বেড়েছে। তবে তার তুলনায় গাছ কাটা হচ্ছে অনেক বেশি। আমাদের বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে বন ও পরিবেশ বিভাগকেও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক সচেতনতা।