বেদনাসিক্ত ১৫ আগস্ট

বেদনাসিক্ত ১৫ আগস্ট

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস, বাঙালির শোক  ও সন্তাপের দিন। সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার রক্তস্নাত দিন। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ তিনি। অতুলনীয় নেতৃত্বে পরাধীন জাতিকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন অসীম প্রেরণার উৎস হয়ে। এই দেশ আর দেশের মানুষের মুক্তির জন্য মাত্র ৫৫ বছরের জীবনের অনেকটাই কেটেছিল তার পাকিস্তানি শাসকদের কারান্তরালে। স্বাধীনতার স্থপতি সেই অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পঁচাত্তরের এই দিনে সুবেহ সাদিকের সময় নিহত হন। একই সাথে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে দেশি বিদেশি চক্রান্তকারীদের মদদে এ দেশেরই কিছু দুর্বৃত্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেদিন রেহাই পায়নি বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র রাসেল কিংবা পুত্র বধূরাও।

ঘাতক চক্র তাকে বা তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মিদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে হত্যাকারীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করেছিল, পুরস্কৃত করেছিল। এই পৈশাচিক হত্যাকান্ডের বিচার হওয়াকে রহিত করেছে ইনডেমনিটি আইন পাস করার মাধ্যমে। এমন কি এক খুনিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে জাতির কাঁধে বহুকাল ধরে চেপে বসেছিল শোকের পাশাপাশি বিচারের দায়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইনের কলঙ্কিত আইনকে বাতিল করে এবং শুরু হয় প্রচলিত আইনে বিচার। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং খুনিদের অধিকাংশেরই মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক খুনিদের বিদেশ থেকে আইনি পথে দেশে এনে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শোকাবহ এই দিনে আমরা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু ও নিহত পরিবারবর্গকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।