বুয়েটের আবরার হত্যার অভিযোগপত্র নভেম্বরে

বুয়েটের আবরার হত্যার অভিযোগপত্র নভেম্বরে

স্টাফ রিপোর্টার : বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে আগামী মাসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ হত্যার তদন্ত ‘নভেম্বরের শুরুর দিকে’ শেষ হবে বলে তিনি জানান। মনিরুল বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চার জনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসেছে যে, তারা শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে মারপিট করছিল। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। বাকিদের জবানবন্দির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, তারা আবরারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করেছিল নাকি মারপিটের জন্য মারপিট করছিল।

 হত্যার উদ্দেশ্য না থাকলেও ‘মারপিটের মাত্রা বেশি হওয়ায়’ আবরারের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘শিবির সন্দেহে পেটানোর’ কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়েছে নাকি অন্য কিছু ছিল সেবিষয়েও তদন্ত করা হবে। কারো কারো জবানবন্দিতে এসেছে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী মাসের শুরুতে বিজ্ঞ আদালত যে তারিখ দিয়েছে তার আগেই- অর্থাৎ আমরা আশা করছি, আগামী মাসের শুরুর দিকে- এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ হবে। তখন আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারব। তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ একদল নেতা-কর্মী শিবির সন্দেহে যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে- তা সংগঠনটির তদন্তে উঠেছে। আসামিদের জবানবন্দির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে পুলিশও একই কথা বলছে। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৫ জন রয়েছেন বলে জানান মনিরুল। ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ রাত ২টায় নয়, ৩টার পরে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশকে তখনো বলেছে, ‘ভেতরে কোনো সমস্যা নাই। সমস্যা থাকলে, কেউ (কর্তৃপক্ষ) জানালে তখন পুলিশ ঢুকে। সমস্যা না থাকলে হলে ভেতরে যাওয়ার রেওয়াজটা ওইভাবে নাই।’ ওই রাতে সে এলাকায় টহলের তিনজন পুলিশ সদস্য ছিল জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘হলে গোলমাল হয়েছে জেনে সেখানে গিয়েও কোনো চিহ্ন পায়নি তারা। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা যেটা পেয়েছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশ যাওয়ার আগেই আবরার মারা গিয়েছে।’