বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ

বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ

বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ। মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার সহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে সব রাজনীতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যা মামলার এজারভুক্ত ১৯ ছাত্রকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। উপাচার্য বলেন, ‘নিজ ক্ষমতাবলে ও স্ট্যাটিউটের ক্ষমতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো। আমরা বুয়েটের উপাচার্যের সাথে একমত পোষণ করছি। ছাত্র রাজনীতি মুক্ত করা না গেলে শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে ‘শিক্ষা’ উধাও হয়ে যাবে- যার আলামত ইতিমধ্যেই সবাই দেখতে পাচ্ছেন। শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র রাজনীতি মোটেও ভাল কিছু দিচ্ছে না।

নৃশংসতা, বর্বরতা, হানাহানি চলছে। অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করে ফেলেছে। ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্ম হচ্ছে। ভিন্ন মতের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। দেশের মানুষ আর হানাহানির ছাত্র রাজনীতি দেখতে চায় না। তাদের মতে, এখন যে ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের কোনো উপকারে আসছে না। যে ছাত্র রাজনীতি মানুষ হত্যা করে, সেই রাজনীতি অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই। শুধু ছাত্র নয়, শিক্ষকদের নীল-সাদার দলীয় বিভাজন শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের বিপরীতেই কাজ করছে বলে অনেকের বিশ্বাস। আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো এখন পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সন্তানদের নিরাপদে রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-গুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব- যা এখন পথ হারিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অহরহ রক্ত ঝরে। এটা স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য ছাত্র রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হোক। শিক্ষাঙ্গন থেকে খুনি নয়- প্রকৃত মানুষ বের হয়ে আসুক।