বুলবুল: ভোলায় মৎস্যজীবীদের ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

বুলবুল: ভোলায় মৎস্যজীবীদের ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে টানা বৃষ্টিতে ভোলায় পুকুর-ঘেরে চাষ করা মাছ ভেসে গিয়ে, নৌকা-ট্রলার বিধ্বস্ত ও মৎস্যখাতের অবকাঠামোগভাবে ১০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে লোকসানের মুখে দিশেহারা জেলার মৎস্য চাষিরা।

মাছ চাষিদের অনেকে এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লাভের আশায় পুকুর-ঘেরে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সেই চিন্তাতেই দিশেহারা এখন অনেকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলা।

সোমবার (১১ নভেম্বর) ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মৎস্য বিভাগ জানায়, ‘বুলবুল’র কারণে জেলায় এক হাজার ১৬১টি পুকুর এবং ৯৮টি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ৭৬৪ মেট্রিক টন মাছ এবং ৪ মেট্রিক টন চিংড়ি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৭৫ লাখ পোনাও।

মাছে ক্ষতি সাত কোটি ২৪ লাখ, চিংড়িতে ১৯ লাখ, অবকাঠামোতে ৭৩ লাখ এবং ৭৪টি নৌকা ও ট্রলারে ক্ষতি ২ কোটি টাকা। চরফ্যাশন উপজেলায় মৎস্যখাতে ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এ উপজেলায় ৩২৫টি পুকুর ও ৭৭টি চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং ২০ লাখ টাকার চিংড়ি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪টি ট্রলার।

অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলায় ১৪৩টি পুকুরের ১৩৪ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার। এছাড়া অবকাঠামোতে ১৫ লাখ ও ৬টি ট্রলার বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতি হয়েছে ৮ লাখ টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম  বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে মাছচাষ শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে পরামর্শ।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় ২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ৫৩ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ট্রলারডুবিতে নিহত হয়েছেন একজন।