বিয়ের ৩ দিন পর নববধূ জানল স্বামী মুসলিম নয়

বিয়ের ৩ দিন পর নববধূ জানল স্বামী মুসলিম নয়

ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের ঘটনায় বাদল কুমার রায় (২৭) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিয়ের কাজি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।


গ্রেফতার ব্যাংক কর্মকর্তা বাদল কুমার রায় পৌর এলাকার রূপালী ব্যাংকের হুলারহাট শাখার সিনিয়র অফিসার ও সদর উপজেলার বাদুরা গ্রামের সিতাংশু কুমার রায়ের ছেলে। বিয়ের কাজি সাইফুল ইসলাম পিরোজপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্টার এবং ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম বলেন, বাদল কুমার নিজেকে বাদল শেখ পরিচয় দিয়ে হুলারহাটের দেওনাখালী এলাকার এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সম্প্রতি বিয়ে করেন। পিরোজপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্টার কাজি সাইফুল ইসলাম প্রতারণা করে এ বিয়ে পড়ান এবং বাদলের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে বিয়ের নিবন্ধন করান। এ খবর এলাকাবাসী পুলিশের কাছে জানিয়ে দিলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাদল কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিয়ের কাজিকেও গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, এক বছর আগে স্থানীয় হুলারহাটের রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার বাদল কুমার নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে বাদল শেখ নামে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তিনদিন আগে আমাকে বিয়ে করে বাদল কুমার। বিষয়টি আমি জানতাম না। স্থানীয়রা বিষয়টি জেনে বাদলকে পুলিশে দিয়েছে।

সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরী হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতারণা করে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেছে বাদল কুমার। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন।

হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এখন আর বিদ্যালয়ে আসে না। তবে ওই ছাত্রী আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রী।