সহায়তা পেলে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব

বিশ্বমানের ডিজিটাল ওজন স্কেল এখন বগুড়াতেই তৈরি হচ্ছে

বিশ্বমানের ডিজিটাল ওজন স্কেল এখন বগুড়াতেই তৈরি হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার :  দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের পরশ লেগেছে  শহর থেকে গ্রামে। ওজন পরিমাপেও এসেছে অধুনিকতার ছোয়া। দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারার পরিবর্তে চালু হয়েছে ডিজিটাল ওজন স্কেল। শিল্পের শহর বগুড়ায় তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের ডিজিটাল ওজন স্কেল। কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বগুড়ার সুনাম রয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। আধুনিক এই সময়ে সনাতন পদ্ধতির দাড়িপাল্লার পরিবর্তে চলছে ডিজিটাল ওজন স্কেলের সময়। সবজি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ  ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সড়ক পথের ওজন স্টেশন পর্যন্ত ডিজিটাল ওজন স্কেল ব্যবহার করা হচ্ছে। বগুড়া শহরের মালতিনগরে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির উপর শোভা এ্যাডভান্সড টেকনোলজিস লিমিটেড উৎপাদন করছে ডিজিটাল স্কেল।  এই ডিজিটাল স্কেলের নাম দেওয়া হয়েছে সুমো ডিজিটাল স্কেল। এই কারখানায় তৈরি হচ্ছে ৩০০ গ্রাম থেকে ২১০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সকল ধরনের বৈদ্যুতিক ওজন পরিমাপক যন্ত্র। সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ আহম্মদ কিরণ জানান, তিনি    নর ডিজিটাল ওজন স্কেল এখন

আগে ট্রেডিং ব্যবসা করতেন। এই ব্যবসা করতে করতে তিনি মনে করেন যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে তার আলোকে উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। ১৯৯৯ সালে মেসার্স শোভা এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ট্রেডিং ব্যবসা হলেও ২০০৯ সালে উৎপাদনমূখী ব্যবসা শুরু করেন। নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে উৎপাদনমূখী এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ধরে রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, ভিন্ন ভিন্ন শিল্প কারখানার জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্কেল ব্যবহৃত হয়। যেমন সিমেন্ট কারখানা, অটো রাইস মিল, ফ্লাওয়ার মিল, চা-বাগান, বস্ত্র শিল্প, জুট মিল, ট্রেডিং হাউজ, বীজ উৎপাদন এবং বিভিন্ন গবেষণাগারে এই ডিজিটাল স্কেল সরবরাহ করা হয়।
১০০ ভাগ মান নিশ্চিত করে ডিজিটাল স্কেল বাজারজাত করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে ২৪ ঘন্টা সার্ভিস সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, বিএসটিআই অনুমোদিত, আইএসও সনদ প্রাপ্ত এবং ওআইএমএল মানদন্ড বজায় রেখে বগুড়ার শোভা এ্যাডভান্সড টেকনোলজিস লিমিটেড এর কারখানায় প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাটটি স্কেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং এক বছরের গ্যারান্টি ও পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর ফ্রি হোম সার্ভিস সুবিধা দিয়ে বাজারজাত করছে। তার দাবি বগুড়ার তৈরি উৎপাদিত স্কেলটি গুণে ও মানে আমদানীকৃত স্কেলের চেয়ে অনেক ভাল।

সেক্ষেত্রে আরও অর্থ বিনিয়োগ করতে পারলে উৎপাদিত স্কেলটি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এই প্রতিষ্ঠানটি। সুমো ডিজিটাল স্কেলে অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি ডিজিটাল স্কেল বিএসটিআই অনুমোদিত বাটখারা দিয়ে কয়েকটা ধাপে ক্যালিব্রেশন করা হয়। সুতরাং ওজনে কোন রকম কম-বেশি হওয়ার সুযোগ নাই। এছাড়াও তাদের কারখানাটিতে বিভিন্ন ধরনের বজ্রপাত প্রতিরোধক জাংশন বক্স, সার্কিট, ডিসপ্লে, ট্রান্সফর্মারসহ অনেক খুচরা যন্ত্রাংশও তৈরি হচ্ছে। ওয়েব্রীজ সঠিকভাবে সার্ভিস ও ক্যালিব্রেশন করার জন্য রয়েছে বিদেশ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল। বিগত দিনে এনালগ স্কেল ব্যবহার খুবই কষ্টসাধ্য ছিল এবং ওজন সব সময় সঠিক হত না। ক্রেতাদের ওজন বুঝাতেও সমস্যা হত। এখন সুমো ডিজিটাল স্কেল ব্যবহারের ফলে ক্রেতাদের আর ওজন বোঝাতে হয় না এবং কোনরূপ কম-বেশি হওয়ার সুযোগ নাই। বড় বড় কলকারখানায় আগে প্রতিটি বস্তা একটা একটা করে ওজন করতে হত। তাই শ্রমিক খরচ ও সময় দুটোই অনেক বেশি লাগত। এখন সুমো ডিজিটাল ওয়েব্রীজ ব্যবহারের ফলে পণ্যসহ ট্রাকটি একবারে ওজন করা যায়। যার ফলে খরচ ও সময় দুটোই অনেক কম লাগে।

২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সে সময় তাদের ব্যবসা দারুণভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তা কাটিয়ে উঠতে এখন নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে ৭৭ জন গ্রাজুয়েট ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ মোট ১৮৬ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন।মাসে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন ক্ষমতা হলেও তারা বর্তমানে অর্ডার মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করেন। কোম্পানীতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সৈয়দ আহম্মদ কিরণ আরও বলেন, সরকারি সহযোগিতা এবং স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এই সেক্টর বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পন্ন হবে, আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, শিল্প বিকাশ ঘটবে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।