বিশ্বকাপে চোখ রেখেই ‘বদলে গেছেন’ সাকিব

বিশ্বকাপে চোখ রেখেই ‘বদলে গেছেন’ সাকিব

হঠাৎ করে যে কেউ দেখলে অবাক বনে যাবেন, নিজ মনেই হয়তো প্রশ্ন করবেন, তিনি আসলেই ৩২ বছর বয়সী সাকিব আল হাসান তো? নাকি ৮-১০ বছর আগের কোনো ছবি দেখানো হচ্ছে? হ্যাঁ- বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসানকে দেখলে এখন এমনটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

কারণ তিনি নিজেকে দিয়েছেন নতুন রূপ, ৩২ বছর বয়সে যেনো ফিরে গেছেন ১৯-২০ বছরে। ফিটনেসের দিকে নজর দিয়ে কমিয়েছেন ওজন, শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন বাড়তি মেদ। যে কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি চনমনে এবং তরুণ মনে হচ্ছে বর্তমানের সাকিবকে।


আর এসবই মূলত সম্ভব হয়েছে আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই। খোদ সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন বিশ্বকাপের দিকে চোখ রেখেই নিজেকে বদলে নিয়েছেন তিনি। পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে ফিটনেসকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

যার ফলটাও তিনি পেয়েছেন হাতে-নাতে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমে বল হাতে মাত্র ৩৩ রান খরচায় নেন ১ উইকেট, লং অনে দাঁড়িয়ে ধরেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ এবং সবশেষ ব্যাট হাতেও খেলেন ৬১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ম্যাচ জেতানো ইনিংস।

ম্যাচের পরদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে নিজের বদলে যাওয়ার ব্যাখ্যায় সাকিব বলেন, ‘বিশ্বকাপ সামনে ছিল। একটি লক্ষ্য নিয়েই করেছি। সবারই লক্ষ্য থাকে। বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি ক্রিকেটারেরই নিজস্ব লক্ষ্য আছে। একটি কথা বলতে পারি, গত ৮-৯ বছরে মনে হয় এত কষ্ট করিনি, যতটা পরিশ্রম ও প্রস্তুতি এই বিশ্বকাপের জন্য নিয়েছি। আমার তরফ থেকে যতটুকু করার সম্ভব ছিল, করেছি। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা ও আমার চেষ্টা।’

সাকিবের এমন বক্তব্যের মূলত স্পষ্ট আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে কতটা তৎপর তিনি। আর বিশ্বকাপে ভালো করার ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে বলে মনে করেন সাকিব।

ওয়ানডে ক্রিকেটে টাইগার সহ-অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে ফোকাস অবশ্যই আছে। একটা চোখ তো বিশ্বকাপে আছেই। ওভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি গত এক-দেড় মাসে। শুরুটা ভালো হলো এখানে। এখানকার আত্মবিশ্বাস অবশ্যই ইংল্যান্ডে কাজে লাগবে। বিশ্বকাপ অনেক কঠিন। আমাদের সবাইকে খুব ভালো ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় থাকতে হবে।’

বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প ২২ এপ্রিল শুরু হলেও সাকিব আইপিএল ছেড়ে দেশে ফেরেন ২৮ এপ্রিল। এ নিয়েও সমালোচনা হয় বেশ খানিকটা। তবে সাকিবের নিজের বিশ্বাস আইপিএলে তিনি যে ট্রেনিং করেছেন, সেটির ফলেই বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে এতো ভালো অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

সাকিবের ভাষ্যে, ‘আসলে তখন পরিবেশ ও পরিস্থিতিই এমন তৈরি হয়ে গিয়েছিল যে আমার প্রস্তুতি নেওয়া দরকার এবং ওখানে নিতে পারব। স্যারের সঙ্গে (মোহাম্মদ সালাউদ্দিন) মূলত ব্যাটিং ও বোলিং নিয়ে কাজ করেছি। ফিটনেস নিয়ে হায়দরাবাদের অস্ট্রেলিয়ান ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করেছি। ও খুব ভালো ট্রেনিং করাতে পেরেছে। আমার কাছে মনে হয় সেটা অনেক কাজে এসেছে। ডায়েট বদলেছে অবশ্যই। না হলে এটা সম্ভব না। সব মিলিয়ে খুব ভালো অবস্থানে আমি এখন আছি।’

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র সাকিব আল হাসান। দলের প্রয়োজনে যেকোনো অবস্থান, পরিস্থিতি থেকে নিজের সেরাটা বিলিয়ে দেন তিনি। তবু সাকিবের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে পরীক্ষা থামে না কখনোই।

তবে বিগত কয়েক সিরিজে ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন সাকিব। সেখানে সাফল্যও পেয়েছেন তিনি। ১৩ ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ৫টি ফিফটি। তিন নম্বরে নামলে সময় নিয়ে বুঝে-শুনে খেলা যায় সাকিবের নিজেরও পছন্দ তিন নম্বরেই ব্যাট করা। তবে দলের প্রয়োজনে কোচ ও অধিনায়কের সিদ্ধান্তে যেকোনো জায়গায়ই ব্যাট করতে রাজি আছেন এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

‘আগে পাঁচে ব্যাট করলেও ১০ ওভারের মধ্যে ব্যাটিংয়ে নামতে হতো। এখন পাঁচে নামলে ৩৫-৪০ ওভারের আগে ব্যাটিং পাওয়া যায় না। সময়ই থাকে না ব্যাটিংয়ের। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই তিনে খেলতে, কোচ-অধিনায়ককে এটিই বলেছি। তার পর দলের জন্য যে কোনো জায়গায় খেলতে আপত্তি নেই। আমি মনে করি, ছাড় দেওয়ার মন-মানসিকতা আমার আছে’- বলেন সাকিব।