বিশ্বকাপ ফুটবলে মধুর উত্তেজনা

বিশ্বকাপ ফুটবলে মধুর উত্তেজনা

রায়হান আহমেদ তপাদার: বাঙালি খেলাপ্রিয় জাতি। দেখা গেছে একসময় আবাহনী-মোহামেডান খেলা হলে রাস্তায় মানুষ থাকতো না। সবাই বসে যেত টিভি সেটের সামনে। ফুটবলকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা-অকাঙ্খা। কিন্তু ফুটবল এতোটা ভালো করতে না পারলেও ক্রিকেট নিয়ে আমরা সেই স্বপ্নের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি বলা চলে। সঠিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় একসময় আমরা ফুটবলকে নিয়েও অনেক এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। এমনভাবে ঈদ আর বিশ্বকাপ উত্তেজনা একসাথে কবে হবে বলা মুশকিল। সেজন্য এবারের দ্বৈত আনন্দ যেন চির ভাস্বর হয়ে থাকে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশে কীভাবে বিভিন্ন দেশের সপক্ষে সমর্থন গড়ে উঠে তা বলা মুশকিল, কিন্তু বাংলাদেশে এ নিয়ে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যায় তা সবারই জানা। এখানে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কর্মকাতিমতো মেজবানির আয়োজন করে খাওয়াচ্ছে। আবার কেউবা তার নিজের সমর্থনের পক্ষের দেশের পাঁচ কিলোমিটার পতাকা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সবাইকে। এক্ষেত্রে কেউ কাউকে থামিয়ে রাখতে পারে না কিংবা থামানোর চেষ্টাও করে না। বাংলাদেশের অনেকের অনেক দেশের প্রতি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থন থাকলেও পুরো দেশ মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। তার একটি ব্রাজিল এবং অপরটি আর্জেন্টিনা। সেটি যে সবসময় কোন একটি সূত্র কিংবা গ্রামার মেনেই হয় তা নয়। এখানে অনেক আবেগ-অনুভূতি কাজ করে থাকে। ব্রাজিল সমর্থকদের প্রধান প্রধান যুক্তি হলো- তারাই হলো ফুটবল সৃষ্টির আদি দেশ। ব্রাজিল এমন একটি দেশ, যে দেশের জাতীয় পতাকায় একটি বলের ছবি স্থান পেয়েছে। তাছাড়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার পেলের দেশ ব্রাজিল। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিরোপাও জয় করেছে ব্রাজিল। আর এখন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার নেইমার হলেন ব্রাজিলের ইত্যাদি ইত্যাদি। বর্তমানে আলোচিত এই বিশ্বকাপ ২০১৮ সালের ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে।

১৯৩০ সাল থেকে কালের পরিক্রমায় আমরা ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছি। বিশ্বকাপের এই দীর্ঘ পথে অনেক খেলোয়াড়রাই তো খেলেছেন। কিন্তু কতিপয় খেলোয়াড়ের অসামান্য কৃতিত্বের কারণে আজও নন্দিত এবং চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তারা হলেন ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা, স্ট্যানলি ম্যাথুজ, আর্জেন্টিনার মেসি, ব্রাজিলের নেইমার পর্তুগালের রোনালদো, পর্তুগালের ইউসো বিও,ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি প্রমুখ। ফুটবলকে ঘিরে নিজের দেশের কথা না বললে হয়তো কমতি থেকে যেতে পারে। সেহেতু এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, ভারতীয় উমপমহা দেশের ফুটবল খেলা প্রথম চালু করে ইংরেজরা। অথচ ঐতিহাসিকরা দাবি করেন যে, মৌর্য রাজত্বকালে সেলুকাসের দূত মেগাস্থিনিস পাটলিপুত্রে বা পাটনায় এসে স্বচক্ষে এই খেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধও কম হয়নি?

যাহোক, এদেশে ইংরেজ বণিকদের আগমনের অব্যবহিত পর ইংরেজ খেলোয়াড় ও সৈনিক ফুটবল দল সুশৃঙ্খলভাবে ফুটবল খেলার চর্চা করে এবং তাদের প্রচেষ্টাতেই ফুটবল খেলা উপমহাদেশের ক্রীড়াজগতে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বস্তুত এ বিশ্বে ক্রীড়া সংস্কৃতিতে ফুটবল যতোটা জায়গা জুড়ে আছে, অন্য কোনো খেলা অতখানি নয়। সবারই কাছে ফুটবল আদরণীয় এবং নির্মল আনন্দের নিয়ামক হিসেবে পরিগণিত। ফুটবল এমনইভাবে রক্তের সঙ্গে মিশে আছে যে, তিন বা চার বছরের একটি শিশু ছেলেকে বলসহ খেলাধুলার অন্য আকর্ষণীয় সরঞ্জাম দিলেও সে ফুটবলটিই বেছে আগে তুলে নিয়ে থাকে। পৃথিবীতে ছোট বড় মিলে ২৩০টি দেশের মধ্যে এমন কোনো দেশের লোক নেই যে, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল খেলা দেখেনি বা বলে কোনোদিন পা দিয়ে কিক দেয়নি। যেহেতু এই খেলাটি মানুষের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। গ্রিক ও রোমানরাই খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দের দিকে প্রথম ফুটবল খেলা শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, তারা বল দিয়ে নানা রকম খেলা খেলত। কিন্তু কিছু কিছু খেলায় তারা কেবল সরাসরি পা ব্যবহার করত। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে আসে যে, তখন বল কি ধরনের ছিল? এক্ষেত্রে গ্রিক লেখক ও নাট্যকার এ্যান্টিফেন্স এবং ক্লিমেন্টের লেখার সূত্র ধরে ধারণা করা হয় যে, বেলুনের ন্যায় চামড়ার তৈরি থলের ভেতর বাতাস পূর্ণ করে বল তৈরি করা হতো। এখানে বল এর আভিধানিক অর্থ হলো পি  বা গোলক বা বর্তুল। যাহোক, তখন এই খেলাটি এপিসক্রয়েস খেলা বলে অভিহিত ছিল। রোমানদের হারপাসটাস নামক ফুটবল খেলা এসেছে এই গ্রিক খেলার হাত ধরেই। যত কথাই বলি না কেন, এই ফুটবল খেলার উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রাচীন সভ্যতার আদি স্থান হিসেবে মিসর, পারস্য, ব্যাবিলন, গ্রিস ও চীনে এই খেলাটি বিভিন্ন নামে প্রচলিত ছিল।

আধুনিক ফুটবল খেলা বিকাশ লাভ করেছে ইংল্যান্ডে। তাই এ দেশকে এর সূতিকাগার বললে বেশি বলা হবে না। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, আগে এই খেলার নিয়ম-কানুন অতখানি ধরা বাঁধা ছিল না। আর বর্তমানে চলমান ফুটবল খেলার শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়ম কানুন তৈরির ব্যাপারে যার কাছে ঋণী; তিনি হলেন মধ্য যুগের স্বনামধন্য ইংরেজ ক্রীড়াবিদ জে সি থ্রিং। কালের পরিক্রমার এই খেলা বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। জাপানে এই খেলার নাম কেমারি বলে অভিহিত করা হতো। আর এ দেশের খেলায় যেটা লক্ষণীয়, তা হলো খেলোয়াড়রা একটা বৃত্তাকার মাঠের ভেতর বল লাথি দিয়ে খেলতো এবং তারা চেষ্টা করত যে, বল যেন মাটিতে না পড়ে বা থামে। একই সঙ্গে কোরিয়াতেও চুক গাক নামে সুপরিচিত হয়ে উঠে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে সামরিক প্রশিক্ষণের সহায়ক অঙ্গ হিসেবে চীনারা এই খেলা খেলত। আর চাইনিজ সামরিক অনুশীলনের প্রাক্কালে এটি কুজু খেলা হিসেবে অধিক সমাদৃত ছিল। এই খেলায় একটি চামড়ার বলে পা দিয়ে সজোরে লাথি মারার বিষয়টি ছিল বেশ আকর্ষণীয়। তাছাড়া এই খেলায় সিল্কের কাপড় দিয়ে ছোট বর্তনী তৈরি করে মাটি থেকে ৯ মিটার উপরে বাঁশের সঙ্গে সংযুক্ত করে রাখা হতো এবং এরই সারথি ধরে ২০৬ থেকে ২০২ অব্দে চীনের হ্যান সাম্রাজ্যে কুজু খেলায় নিয়ম-কানুন প্রবর্তিত করা হয়। সময় তো আর বসে থাকে না। ফুটবল খেলার আদ্যন্ত নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। এর সূত্র ধরে আর ১৫৮৬ সালে এই খেলা নিয়ে অনুসন্ধান করতে থাকেন ইংরেজ বিশেষজ্ঞ জন ডেভিস। অনুসন্ধানকালে পরিলক্ষিত হয় যে, নিউজিল্যান্ডে মাওরীদের ভেতরে এই খেলার নাম ছিল কিও-রাহিল. সেখানে এ খেলার নিয়ম ছিল একটা বৃত্তাকার মাঠকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগে একটা করে দল (সাতজন করে খেলোয়াড় সংবলিত) থাকত এবং মাঠের মাঝখানে একটা বৃত্তাকার সীমানা থাকত। তাছাড়া এই খেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে একদল খেলোয়াড় বল নিয়ে আরেক দলের সীমানা পার করে দিতে পারলে এবং একই সঙ্গে মাঝের বৃত্তটা স্পর্শ করতে পারলে ১ বা ২ নম্বর পেয়ে যেত। এতদ্ব্যতীত গ্রিনল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াতে এই খেলার ভিন্নধর্মী নানা নামের নজির মেলে।

১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে এই নতুন নিয়মেই স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরনের একটি খেলা হয়। আর এটিই ছিল ফিফা কর্তৃক স্বীকৃত প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা। অবশ্য, সেই খেলার ফলাফল ছিল ০-০। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই খেলা সকার বলে সুপরিচিত ছিল এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। ফুটবলের ইতিকথা রেখে এবার আসুন বিশ্বকাপের দিকে নজর দিই। এই বিশ্বকাপকে নানা নামে ডাকা হয়ে থাকে; যেমন- ফিফা বিশ্বকাপ বা সকার বিশ্বকাপ কিংবা শুধু বিশ্বকাপ। অবশ্য ফিফার আদি গোড়ার শব্দ ফরাসি শব্দ থেকে এসেছে; যেমন- ফেদেরাসিওঁ অ্যাঁতের্নাসিওনাল দ্য ফুৎবল আসোসিয়াসিওঁ, অর্থাৎ ‘আন্তজার্তিক ফুটবল সংস্থা’। এই ফিফাই বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, ১৯০৪ সালে ২১ মে প্যারিসে ইউরোপের ৭টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এই ফিফা গঠিত হয়। আর ১৯৩০ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং তখন থেকে এখন পর্যন্ত চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঝে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। যাহোক, বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা দুটি ভাগে বিভক্ত; যেমন- বাছাইপর্ব ও চূড়ান্ত পর্ব। চূড়ান্ত পর্যায়ে কোন দল খেলবে, তা নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বাছাইপর্বে অংশ নিতে হয়। বর্তমানে মূল বিশ্বকাপে আগের তিন বছর ধরে প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতার বর্তমান ধরন অনুযায়ী ৩২টি জাতীয় দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে থাকে। আয়োজক দেশে প্রায় একমাস ধরে এই চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা চলে থাকে। দর্শক সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্ব বিশ্বের বৃহত্তম অনুষ্ঠান বলে প্রতিষ্ঠিত। এদিকে ফিফার হিসাব অনুযায়ী ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখেছেন প্রায় ৭১৫.১ মিলিয়ন দর্শক। ১৯৩০ সালের অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা নিয়ে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্ম অলিম্পিকে ফুটবলকে না রাখার পরিকল্পনা করা হয়।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রে তখনও ফুটবল জনপ্রিয় ছিল না। আর ফুটবলের পরিবর্তে ওখানে আমেরিকান ফুটবল জনপ্রিয় ছিল। তাছাড়া ফিফা এবং আইওসি’র মধ্যে অপেশাদার খেলার মর্যাদা নিয়ে মতবিরোধও দেখা দেয়। আর এরই ফলশ্রুতিতে ফুটবল অলিম্পিক থেকে বাদ পড়ে যায়। এহেন বাধা সত্ত্বে¡ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ আয়োজনের অর্থ দাঁড়ায় যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলো থেকে দীর্ঘ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি এবং ব্যয়বহুল খেলায় আসার বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। এজন্য ইউরোপীয় কোনো দেশ এই প্রতিযোগিতায় দল পাঠাতে সম্মত হয়নি। তখন জুলে রিমে অক্লান্ত চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোসøাভিয়া থেকে দল আনাতে সক্ষম হন। এতে মোট ১৩টি দেশ অংশ নেয়। আর এখান থেকেই বিশ্বকাপ টেক অব স্টেজ উঠে আসে। গৃহীত তথ্যাদি অনুযায়ী জানা যায় যে, ১৮২১ সালের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত মিলিটারি বনাম মুম্বাই আইল্যান্ডের খেলাটিকে উপমহাদেশের প্রথম ম্যাচ বা প্রতিযোগিতা মূলক খেলা হিসেবে গণ্য করা হয়। হয়তো সে জন্যই মুম্বাইকে উপমহাদেশের ফুটবলের জš§ভূমি বলে অনেকে অভিহিত করে থাকেন। এদিকে অনেকে বলে থাকেন যে, মুম্বাইয়ের আগে এলাহাবাদ, কলকাতা ও ঢাকায় নাকি ফুটবল প্রসার লাভ করে। মূলত ১৮৯৩ সাল থেকে ঢাকা ও কলকাতায় বাঙালিদের মধ্যে ফুটবল খেলার উদ্দীপনা ও উৎসাহ পরিলক্ষিত হয় এবং একই বছর আইএফএ শিল্ডের খেলা শুরু হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, কলকাতা সেই মোহামেডান বনাম মোহনবাগান ফুটবল এখনও অনেকের হৃদয়পটে ভেসে ওঠে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ফুটবল নতুন উদ্যমে শুরু হয়। ফুটবলের উন্নয়নের জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বাফুফের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালে ঢাকায় ফুটবল লীগ শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে জাতীয় ফুটবল এবং ১৯৭৪ সালে জাতীয় যুব ফুটবল শুরু হয়।১৯৮০ সালে শুরু হয় ফেডারেশন কাপ ফুটবল। এছাড়া অন্যান্য টুর্নামেন্টের মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লীগ, ডামফা কাপ, ১ম বিভাগ, ২য় বিভাগ ও ৩য় বিভাগ ফুটবল লীগ। পরিশেষে এই বলে শেষ করতে চাই যে, এই জনপ্রিয় ফুটবল খেলা কেবল নির্মল আনন্দের ধারক ও বাহক নয়। এর মধ্যে যে নির্যাস বিদ্যমান; তা হলো ‘টিম স্পিরিট। কেননা এর ফলাফল একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না। দলভুক্ত এগারো জনেরই আন্তরিকতা ও কৌশলগত প্রচেষ্টার সারথি ধরে আসে জয়। আর এর ছন্দপতন হলে ভাগ্যে জুটে পরাজয়।
লেখক ঃ কলামিস্ট
[email protected]