বিশৃঙ্খল ব্যাংকিং খাত

বিশৃঙ্খল ব্যাংকিং খাত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের কার্যক্রমে মানুষের মধ্যে কিছুটা সন্দেহ ও অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর জন্য যা অশনিসংকেত। এসব সমস্যা কাটিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। গত শনিবার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষকে নিয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাহীদের ভূমিকা রাখতে হবে। গভর্নরের কথার সঙ্গে সবাই একমত হবেন। কেননা দেশের ব্যাংকিং খাতে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। ঋণের নামে জনগণের আমানতের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে লুটপাটের কারণে যে ঘাটতি হয়, তা আবার সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ পূরণ করা হয়। এভাবে জনগণের করের অর্থের অপচয় হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যাংকে গিয়ে অনবরত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় চলছে সম্পদের হরিলুট। এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন-বিতরণ ও নিয়োগ-পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুয়া অস্তিত্বহীন, নাম সর্বস্ব ও খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ খুইয়ে চলেছে পরিচালনা পর্ষদ। এ ছাড়া তাদের সরাসরি নির্দেশে অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যক্রমে বাধ্য হচ্ছেন কর্মকর্তারাও। ব্যাংক হচ্ছে মানুষের আস্থার স্থান, সঞ্চয়ের ভরসাস্থল, বিশ্বাসের এই জায়গাটুকু কোনওক্রমে ধ্বংস করে দিতে পারি না আমরা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাটাই জরুরি। এ খাতের কোথাও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লে সব ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনায় উর্ধ্বে থেকে নিতে হবে ব্যবস্থা।