বিলুপ্ত প্রায় তাঁত শিল্প

বিলুপ্ত প্রায় তাঁত শিল্প

বাংলাদেশের তাঁতের শাড়ির সুনাম নতুন নয়। দেশের সীমানা ছাড়িয়েও এর সীমা বিদেশেও ছড়িয়ে গেছে। বাঙালি নারী মানেই তাঁতে বোনা নানা রঙের সুতি শাড়ি। তাঁত শিল্প এ দেশের একটি প্রাচীনতম ও বৃহৎ কুটির শিল্প। এক সময় এই খাতে কর্মসংস্থানও ছিল বিস্তৃত। কিন্তু বর্তমানে তাঁত শিল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রটি অনেক সংকুচিত। আয় কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন কারণে হস্তচালিত তাঁত শিল্প ছেড়ে যাচ্ছেন এই শিল্পের শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা। সুতা, রং এবং রাসায়নিক দ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় মালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে ক্রমাগত লোকসানের মুখে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নানা স্থানের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প।  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তাঁত শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সংখ্যা তিন লাখ এক হাজার ৭৫৭ জন। ১৫ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ১১৫ জন।

তাঁত শুমারি ২০১৮-এর প্রতিবেদনে কর্মসংস্থান হ্রাসের যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্প থেকে যান্ত্রিক শিল্পের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব ও বাজারজাতকরণের সমস্যা অন্যতম। যেহেতু সমস্যাগুলো চিহ্নিত সেহেতু উন্নয়নে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দুরূহ কোনো বিষয় নয়। তাঁত শিল্পকে বাঁচাতে হলে তাঁত বান্ধব নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। সারা বছর এলাকাভিত্তিক তাঁত মেলার আয়োজন করা হলে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া সুদমুক্ত ঋণ, শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির ব্যবস্থা করা হলেও তা কাজে আসতে পারে। তাঁত শিল্পের অতীত ঐতিহ্য অস্বীকার করার জোঁ নেই। দেশ-বিদেশে তাঁতে বোনা শাড়ি, লুঙ্গি, গামছার চাহিদা এখনো আছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা টিকিয়ে রাখাই মূল কথা। তাঁত শিল্পের সংকট নিরসন করলে শুধু তাঁত শিল্পীদের জীবন-জীবিকাই রক্ষা পাবে না, অর্র্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়বে নীতিবাচক প্রভাব।