বিলম্ব বিড়ম্বনায় ট্রেনের ‘ঈদযাত্রা’ শুরু

বিলম্ব বিড়ম্বনায় ট্রেনের ‘ঈদযাত্রা’ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : রুটি-রুজির তাগিদে রাজধানীতে বসবাস করা মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছেড়ে রওনা হয়েছে গ্রামের বাড়ির পথে। এবার রোজার ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে প্রথম যে দিনের আগাম টিকেট বিক্রি করেছিল, সেই ট্রেন ছাড়া শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার। ফলে সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের বাড়তি ভিড়। কিন্তু প্রথম দিনই বেশ কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে গরমের মধ্যে যাত্রীদের পড়তে হয়েছে অপেক্ষার বিড়ম্বনায়। রেল কর্মকর্তারা জানান, বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১৬টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও সাতটি ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে কয়েক ঘণ্টা করে। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সোয়া দুই ঘণ্টা, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ১০ মিনিট, চিলাহাটীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট, কিশোরগঞ্জগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা এবং সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস আধা ঘণ্টা দেরি করে স্টেশন ছেড়ে গেছে। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় রওনা হওয়ার কথা থাকলেও তা না পারায় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংহগামী ঈশাখা এক্সপ্রেস বেলা সাড়ে ১১টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১২টার পর্যন্ত ট্রেন দুটি স্টেশন ছেড়ে যায়নি।

কমলাপুরের স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক  বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর লাইনে কিছু সমস্যা ছিল। সকালে তাই ধীরে চলতে হয়েছে। উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটা ট্রেন ঢাকা এসেছে দেরি করে, ছাড়তেও দেরি হয়েছে।’ আর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের মধ্যে বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আসা ট্রেন ‘ড্রেসিং’ (পরিচ্ছন্নতা) করতে সময় লাগায়। ময়মনসিংহ  ও সিলেট লাইনের ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে বলে স্টেশন মানেজার জানান। ট্রেন ছাড়তে দেরির জন্য স্টেশনের মাইকে যাত্রীদের উদ্দশে বার বার ঘোষণা করা হচ্ছে- ‘আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত’। তবে যাত্রীদের অপেক্ষার কষ্ট তাতে লাঘব হচ্ছে না। ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘সেহরির পর নামাজ পড়ে স্টেশনে আসছি। কিন্তু ট্রেন দেরি করেছে। এই গরমের মধ্যে কষ্টই হচ্ছে।’ যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে সকাল সাড়ে ৯টায় কমলাপুর স্টেশনে এসে রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন আশ্বাস দেন, শনিবার থেকে আর কোনো ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হবে না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীদের উঠানামা, স্টেশনে আসতে দেরি হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে। তবে এটা সূচি বিপর্যয় মানতে রাজি নন তিনি। ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল থেকে আর কোনো ট্রেন বিলম্বে ছাড়বে না।

যে কটি ট্রেন আজ দেরি করে ছাড়তে হয়েছে, সেগুলোর দিকে আলাদা নজর দিয়ে নির্ধারিত সময়ে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হবে। রংপুর এক্সপ্রেস সোয়া সাত ঘণ্টা লেইট হয়ে আছে। আগামীকাল নতুন একটি ট্রেন রংপুর থেকে ছেড়ে এই সময়ের গ্যাপ পূরণ করা হবে।’ রেলওয়ে খাতকে সরকারের আরও উন্নত করার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে সুজন বলেন, ‘আমাদের যেসব দুর্বলতা আছে সেগুলো কাটিয়ে ট্রেনের আরও উন্নতি করা হবে। আগামী কোরবানির ঈদে নতুন করে আরও চারটি ট্রেন যোগ হবে। লালমনিরহাট ও রংপুরকে অগ্রাধিকার দিয়ে ওইসব ট্রেন চালু করা হবে।’ স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অগ্নবীণার যাত্রী ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা আল আমিন তাকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মাত্র দুটি ট্রেন যাতায়াত করে। কিন্তু যাত্রী বেশি হওয়ায় ধারণ ক্ষমতা থাকে না। আমাদের আরেকটা নতুন ট্রেনের ব্যবস্থা করা হোক।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে ট্রেনর সুযোগ-সুবিধা পেছনের দিকে যাবে না, সামনের দিকে যাবে।

আমাদের চেষ্টা থাকবে ট্রেনে উন্নত সেবা দেওয়ার।’ এরপর প্রতিমন্ত্রী একই ট্রেনের যাত্রী বিসিএসআরের কর্মী আশরাফুল আলমের সঙ্গে কথা বলেন। আশরাফ বলেন, তাদের দুটি ট্রেনের কোনোটিতেই এসি নেই। গরমে কষ্ট হয়। প্রতিমন্ত্রী তাকেও রেলেও উন্নত সেবার আশ্বাস দেন। একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, ট্রেনের এসি ও প্রথম শ্রেণির টিকেট স্টেশন ম্যানোজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা কিনতে পারে না। প্রতিমন্ত্রী সুজন এ অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তাকে। অভিযোগ জানাতে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল নম্বর সম্বলিত একটি লিফলেটও তিনি যাত্রীদের হাতে বিতরণ করেন। নাজনীন নাহার নামের এক যাত্রী বলেন, ‘মন্ত্রী লিফলেটি দিয়ে বলেছেন কোনো ধরনের হয়রানি হলে এসব নম্বরে ফোন করে জানাতে। সেজন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’