বিদ্যুতের দাম বাড়লে কর্মসূচি দেবে বিএনপি : ফখরুল

বিদ্যুতের দাম বাড়লে কর্মসূচি দেবে বিএনপি : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের দাম পুনরায় বাড়ালে প্রতিবাদে বিএনপি কর্মসূচি দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানিতে আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছিলো, সেখানে দলের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। নিত্যপণ্য ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। আবার যদি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, আমরা অবশ্যই কর্মসূচি নেবো। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে ক্ষমতাসীন ব্যবসায়ী জোটই দায়ী বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

 তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে মুক্তবাজারের দর্শনে বিশ্বাসী, অন্যদিকে নিজস্ব দলীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী। সরকারের দুর্নীতি, টাকা পাচার, লুটপাটের মাধ্যমে পাহাড় সমান সম্পদ অর্জনের ফলোশ্রুতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, দলীয় ব্যবসায়ীদের দ্বারা তৈরি ব্যবসায়ী জোট ভাঙতে না পারলে, টিসিবিকে শক্তিশালী করতে না পারলে, দলীয় লোকজন দ্বারা পরিবহনের চাঁদাবাজি বন্ধ না করতে পারলে এবং মধ্যস্বত্ব ব্যবস্থা বন্ধ করতে না পারলে- দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা সম্ভব হবে না। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সরবরাহের কোনো ঘাটতি না থাকলেও সরকারের ব্যর্থতার কারণেই মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এবং বর্তমান সরকারের আমলে গত ১ ডিসেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমাদের সময়ে ২০০৬ সালে মোটা চাল ছিলো গড় ১৭ টাকা ৫০ পয়সা, এখন ২০১৯ সালে তা ৩৪-৪০ টাকা, সরু চাল ছিলো ২৪ টাকা ৫০ পয়সা, এখন হচ্ছে এটা ৪১ থেকে ৬০ টাকা।

 পেঁয়াজ ৮-২০ টাকা, এখন হয়েছে এটা ২২০-২৪০ টাকা। সয়াবিন তেল ছিলো ৫৫ টাকা, এখন হয়েছে ৯৪-১১০ টাকা। আটা ছিলো ১৭ টাকা, এখন হচ্ছে ২৮-৩২ টাকা। হাঁসের ডিম আমাদের সময় ছিলো ১২ টাকা, এখন হচ্ছে ৭০ টাকা; আলু ছিলো ৬ টাকা, এখন ৩০ টাকা। চিনি ছিলো ৩৬ টাকা, এখন হচ্ছে ৬০ টাকা। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব দাম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- বিগত ১৩ বছরে জিনিসপত্রের মূল্য গড় হিসেবে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, অনেক জিনিসের মূল্য বেড়েছে ৩ গুণ। অথচ এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী সরকার ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। এই সরকারের প্রতিশ্রুত ১০ টাকার চাল আমজনতা খেয়েছে ৭০ টাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে সব জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির ফলে শুধু বিএনপিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশের সব মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই জনগণকেই এগিয়ে এসে এর প্রতিবাদ করতে হবে, এই দানব সরকারকে অপসারণ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরফত আলী সপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।