বিদেশে নারী গৃহকর্মি

বিদেশে নারী গৃহকর্মি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মি নির্যাতনের চিত্রগুলো আমাদের সম্মুখে উন্মোচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নেই মানবিক মূল্যবোধ, নারীদের মানুষ নয়, ভাবা হয় পণ্য। বারবার সংকট সমস্যার কথা বলার পরও মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হচ্ছে না। অথচ নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিনিয়তই দেশে ফিরছেন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় যাওয়া বাংলাদেশের নারীরা। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরব সহ কয়েকটি দেশে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৫ জন নারী কর্মি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সৌদিতেই গেছেন দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩১ জন। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী নারী গৃহকর্মিরা শারীরিক ও যৌন নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। তাই আগেই মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, শ্রীলংকার মতো দেশগুলো।

এখন সময় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার বিকল্প নেই। বিশেষত নারী শ্রমিকরা যাতে কোনোভাবেই নিগৃহীত না হয় তা নিশ্চিত করা জাতীয় কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। লক্ষ্যণীয় যে, গৃহকর্মি নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে এক শ্রেণির আদম ব্যাপারি ও সম্পর্ক রয়েছে। তারা এক দেশে পাঠানোর নামে অন্য দেশে নারী গৃহকর্মি পাঠিয়ে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমান সরকার সরকারিভাবে বিদেশে কর্মি নিয়োগের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তা অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর ফলে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আদম ব্যাপারীদের প্রতারণা ও লুটেরা ব্যবসায় রাশ টেনে ধরার কৃতিত্ব দেখিয়েছে এই ইতিবাচক উদ্যোগ। প্রবাসী কর্মিদের আয জাতীয় অর্থনীতির জন্য খুবই দরকারি। তবে তা মানুষের জীবন ও সম্মানের বিনিময়ে কাম্য হতে পারে না।