বিদায়ী বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার

বিদায়ী বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার

বিদায়ী বছর ২০১৮ সালে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে রেকর্ডসংখ্যক ১০ সহস্রাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ১৬ বছর আগে ২০০২ সালে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৩২ জনের আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল। অর্থাৎ ২০০২ সালের তুলনায় গত বছর ৩ হাজার ৭৬৮ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৮ জনের মৃত্যু হয়। তবে ২০০২ সালে সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক ৯৩ জনের মৃত্যু হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ইতোপূর্বে জুন-জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু মৌসুম ধরা হলেও চলতি বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। তারা বলেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রচলিত ধরন বদলে গেছে। আগে ডেঙ্গু হলে প্রথমে উচ্চমাত্রার জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও গায়ে র্যাশ বা ফুসকুড়ি হতো। পরবর্তীতে চার থেকে সাতদিনের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকের নানা লক্ষণ (প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়ুপথে রক্তপাত) প্রকাশ পেতো। কিন্তু চলতি বছর জ্বর ওঠার দু-একদিনের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকের লক্ষণসহ রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা গেছে। এমনকি স্বল্প সময়ে রোগী ‘শক সিনড্রোমে’ আক্রান্ত হয়ে হার্ট, ভাল্ব, কিডনি, লাংসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তির পরও রোগীর মৃত্যু হতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বছরওয়ারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৫৫১ জন, ২৪৩০ জন, ৬২৩২ জন, ৪৮৬ জন, ৩৪৩৪ জন, ১০৪৮ জন, ২২০০ জন, ৪৬৬ জন, ১১৫৩ জন, ৪৭৪ জন, ৪০৯ জন, ১৩৫৯ জন, ৬৭১ জন, ১৭৪৯ জন, ৩৭৫ জন, ৩১৬২ জন, ৬০৬০ জন, ২৭৬৯ জন এবং ১০১১২ জন।

সালওয়ারি পরিসংখ্যানে একই সময়ে মারা যায় যথাক্রমে ৯৩ জন, ৪৪ জন, ৫৮ জন, ১০ জন, ১৩ জন, ৪ জন, ১১ জন, ০, ০, ০, ০, ৬ জন, ১ জন, ২ জন, ০, ৬ জন, ১৪ জন, ৮ জন এবং ৬৮ জন।