বিক্ষোভের চতুর্থ দিনেও উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

বিক্ষোভের চতুর্থ দিনেও উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

ভারতীয় সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের চতুর্থ দিনেও উত্তাল দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনতা।

এ ঘটনায় একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল বা সময় পেছানো হয়েছে। রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানান, শিয়ালদহ-ডায়মন্ড হারবার এবং শিয়ালদহ-নামখানা রেলপথ অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের সরাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

মালদা, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনাসহ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অনেক অঞ্চলে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। 

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও জনগণের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা পাথর ছোড়ে। সহিংসতায় কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্য আহত হন।

এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হবে না।  তবে, বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ ডিসেম্বর পাস হওয়া আইনটির সমালোচকদের মধ্যে অন্যতম। এ আইনের প্রতিবাদে ডিসেম্বর জুড়ে রাজ্যে ধারাবাহিক র‍্যালি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তার নেতৃত্বের তৃণমূল কংগ্রেস।

নতুন পাস হওয়া আইনে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিসহ অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ ও ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।