বিকাশমান পোলট্রি শিল্প

বিকাশমান পোলট্রি শিল্প

বলা হয়ে থাকে গার্মেন্টসের পর পোলট্রি শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। এ খাতে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। বাংলাদেশের জনগণের পুষ্টি জোগানদাতা পোলট্রি ফার্ম নানা প্রতিবন্ধকার মধ্য দিয়ে এতদিন কোনোক্রমে বেঁচে আছে। আমাদের পোলট্রি শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি, খামার রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামোর সুবিধা নেই তেমন। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট মাংসের চাহিদার ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশই এ শিল্প থেকে আসছে। বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ ডিম, মুরগি, বাচ্চা ও ফিডের প্রয়োজন তার শতভাগ এখন দেশীয় ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে। বিকাশমান এ শিল্পে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। পোলট্রি শিল্পে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী বলেন, পোলট্রি শিল্পের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দেশীয় বাজার সম্প্রসারণ করে আন্তর্জাতিক বাজার কীভাবে সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করে এর কৌশল বের করতে হবে। কারণ, এ শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোলট্রি শিল্পে জড়িতদের ৪০ শতাংশই নারী। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে কৃষির পরেই অবদান রাখছে পোলট্রি শিল্প। দারিদ্র বিমোচন ও পুষ্টির সহজ লভ্যতায় পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। খাত দুটিতে বিনিয়োগ করে সহজে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস, বীমার আওতায় পোলট্রি খাতকে নিয়ে আসা ও সরকারি সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেছে খাত সংশ্লিষ্টরা। অভ্যন্তরীণ ভাবে এ খাত মজবুত হলে একে বৈদেশিক বাজারেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।