বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে

বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নানান উদ্যোগের কথা বললেও নতুন শ্রম বাজার খুলছে না বাংলাদেশি কর্মিদের জন্য। ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অষ্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর দুয়ার এখনও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বন্ধ। চলতি বছরে বিদেশগামী ১০ লাখ কর্মির ৯০ শতাংশেরই গন্তব্য পুরনো বাজার মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানেই দেখা যায়। পুরনো মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজার এখনও ভরসা, ইউরোপে জনশক্তি রফতানি এবং কমেছে। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৩১ হাজার ৮১২ জন কর্মি কাজ নিয়ে বিদেশ গেছেন। এদের মধ্যে ৭৫ ভাগই মধ্যপ্রাচ্যে গেছেন। জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধিও এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোয় কর্মরতদের আরো ব্যাপক ভূমিকা নেয়া দরকার। একই সঙ্গে জোর দিতে হবে দক্ষ শ্রমিক তৈরির বিষয়েও। কারণ বিশ্ব শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

 আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশ দূরে সরে যাচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যেমন নতুন শ্রম বাজারে প্রবেশের জন্য আবশ্যক, তেমনি পুরনো বাজার ধরে রাখতেও ব্যবস্থা নিতে হবে। পশ্চিমা দুনিয়ায়  শ্রম বাজার খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় মানুষ অনেক কষ্ট করে দালালদের হাতে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে বিদেশে গিয়ে বিপাকে পড়ছে। দালালের প্রতিশ্রুত সুবিধা তো নেই-ই, বরং উল্টো অবৈধ হয়ে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে অথবা পুলিশের হাতে পড়ে কারাগারে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলো এসব বিপদাপন্ন কর্মিদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। দালালদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজারের পথ মসৃণ ও বিস্তৃত হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন গতিশীল হবে।