বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিশৃঙ্খলা: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিশৃঙ্খলা: প্রধানমন্ত্রী

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি টাকার বিনিময়ে একেকটি আসনে একাধিক প্রার্থী দেওয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সরকারের সময় লুটপাটের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রসঙ্গও টানেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা একেক সিটে ৪/৫ জনকে নমিনেশন দিয়েছে। অকশনে তুলেছে নমিনেশন। যারা বেশি টাকা হাঁকিয়েছে তারাই পেয়েছে নমিনেশন। এজন্য তাদের ছেঁড়াবেড়া অবস্থা।

“বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া ইনাম আহমেদ সাহেব আমাকে এইসব বলেছেন।”

গত বুধবার শেখ হাসিনার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী।

সিলেট শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ইনাম। প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত মনোনয়নে বাদ পড়েন তিনি। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে অর্থমন্ত্রীর ভাই এ কে এ মোমেনকে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বেলা পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছার পর প্রথমেই হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করেন শেখ হাসিনা। পরে হজরত শাহপরান ও হজরত গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজারও জিয়ারত করেন তিনি।

বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে সভামঞ্চে আসার পর ৪টা ২ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সিলেট বিভাগের চার জেলায় মহাজোটের শরিক আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিকল্প ধারার ১৯ জন প্রার্থীকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

৩৬ মিনিটের বক্তব্যে সিলেটকে ঘিরে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের আরও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নৌকার পক্ষে ভোট চান।

তিনি বলেন, “ডিসেম্বর মাস আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাস, নৌকার বিজয়ের মাস। এই বিজয়ের মাসে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। এই নৌকা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসেছে।”

 

সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে সিলেটের প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা-সিলেট চার লেনের রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সিলেটের জলাবব্ধতা দূর করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

“ক্রিকেট স্টেডিয়াম করেছি আন্তর্জাতিক মানের। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদে ইসলামিক সেন্টার করে দিচ্ছি। তার কিছু সেন্টার সিলেটেও থাকবে।এই সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।”

গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষমতায় এসেই তারা একের পর এক মানুষ হত্যা করে। হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে শীর্ষে নিয়ে গেছে, সারাদেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।

 

“বিএনপি নেতা তারেক জিয়া ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় মানুষ খুন করার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারিতে সাজাপ্রাপ্ত। আজকে বিদেশে থেকে ষড়যন্ত্র করছে।”

খালেদা জিয়া নিজের গড়া প্রশাসনের হাতে দুর্নীতির মামলায় পড়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১০ বছর ধরে ওই মামলার বিচার শেষে এখন তিনি সাজা ভোগ করছেন। এই মামলা আমরা দিইনি। এটা দিয়েছে তার নিজের লোক সেনাপ্রধান মঈনুদ্দিন, ফখরুদ্দিন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দুর্নীতি করতে আসিনি। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু সেটা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। নিজের টাকায় পদ্মাসেতু করার কথা বলেছিলাম, সেটা পেরেছিলাম। আর এতেই বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বের দরবারে অনেক উপরে উঠেছে। এই উচ্চাসনটা ধরে রাখতে হবে।”

“নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু, নূহের আমলে মহাপ্লাবনে মানুষ নৌকার মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার এসেছে নৌকার মাধ্যমে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুদ্দিন আহমদ কামরান।

সভামঞ্চে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হাবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ১৯টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা ছাড়াও ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান প্রমুখ।