বিএনপির ঐক্য যদি অরাজকতা সৃষ্টির জন্য হয় তবে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে : নৌমন্ত্রী

বিএনপির ঐক্য যদি অরাজকতা সৃষ্টির জন্য  হয় তবে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে :  নৌমন্ত্রী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : সদ্য গঠিত বিএনপির ঐক্যজোটকে স্বাগত জানিয়ে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, প্রতিযোগিতা না হলে জয়ের মাঝেও আনন্দ নেই। তাদের (বিএনপি) এ ঐক্য যদি পেট্রোল বোমা ও অরাজকতা সৃষ্টির জন্য হয়। তবে বিগত দিনের মত জনগণ এবারও তাদের প্রত্যাখান করবে। গতকাল শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে    
বিএনপির ঐক্য যদি অরাজকতা সৃষ্টির জন্য

অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, আপনারা (বিএনপি) অজুহাত দিয়ে পিছিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করবেন না। নির্বাচনে আসুন। বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। যারা আসবেন তাদের নিয়েই নির্বাচন হবে। বুড়িমারী স্থলবন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রী বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য জিরো লাইনের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক মানের বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল করা হবে, ব্যাংকের বুথ বসানো হবে। বুড়িমারী স্থলবন্দর সম্মেলন কক্ষে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে বন্দর উন্নয়ন ও গতিশীলতা আনয়নে উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি লালমনিরহাট ১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, নাটোরের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল প্রমুখ।

 অপরদিকে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া প্রতিনিধি  জানান,: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, যারা স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার-আলবদরদের পক্ষ নেবে তাদের সঙ্গে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পর্ক হতে পারেনা। সুতরাং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোন সুযোগ নেই বলে আমি মনে করি। আগামী ডিসেম্বরে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচন হবে। কে আসবে আর কে আসবে না এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তিনি গত শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় সার্কিট হাউজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাসদ, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক  নেতা ও সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়-২ আসনে সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সুজন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন আহামেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত স¤্রাট প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে তিনি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে বন্দরের সভা কক্ষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় মিলিত হন। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিলেন। ১২টি স্থলবন্দর তিনি গেজেটভুক্ত করেছিলেন। পরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর একটি স্থলবন্দরও সচল করেননি। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ১০ বছরে ১০টি স্থলবন্দর সচল করছেন। এখন আমাদের ২৩টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১২টি স্থল বন্দর সচল রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে এই স্থলবন্দগুলো থেকে লভ্যাংশ আসতো মাত্র ২৬ কোটি টাকা। তিনি ক্ষমতায় আসার পর এই লভ্যাংশের পরিমান হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। বাংলবান্ধার স্থলবন্দরের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বন্দরটি যাতে সচল থাকে এজন্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
সন্ধার পর তিনি শহরের শেরে বাংলা পার্ক মোড়ের মুক্তমঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।