সিনিয়র নেতারা ঢাকায় থাকবেন

বিএনপিতে এবার নিরানন্দের ঈদ

বিএনপিতে এবার নিরানন্দের ঈদ

রাজকুমার নন্দী : ঈদ মানুষের জীবনে খুশি ও আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসলেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য এবারের ঈদ নিরানন্দের। ঢাকায়ও কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। প্রতি বছর খালেদা জিয়া রাজনীতিবিদ, দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিদেশী কূটনীতিকসহ সর্বসাধারণের সঙ্গে যে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন এবার তা হচ্ছে না। ঈদের দিন সিনিয়র নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং তার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত শেষে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে জেলগেটে যাবেন। আর মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিশেষ করে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা ভোটারদের মন জয় করতে নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের এবারের ঈদে কেন্দ্র থেকে বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া না হলেও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা তৃণমূলে নির্বাচনের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বিষয়ে জনমত গঠন করবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) মিথ্যা-ভিত্তিহীন মামলায় রাজনৈতিক কারণে এই সরকারের কারাগারে বন্দি। প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে তিনি যেসব কর্মসূচি নিতেন, এবার তা হচ্ছে না। ঈদের দিন বিএনপি মহাসচিব ঢাকাতেই থাকছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় আমাদের এবারের ঈদ নিরানন্দের। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কারো মনে কোনো আনন্দ নেই। ঈদের দিন ঢাকায়ও এবার দলের কোনো কর্মসূচি নেই। এবারের ঈদে নেতা-কর্মীদের বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে নির্বাচনী বছর হওয়ায় ঈদকে ঘিরে নিরানন্দের মধ্যেও কম-বেশি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। সিনিয়র-জুনিয়র নেতা থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রমজানজুড়েই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ইফতার সংযোগ করেছেন। ভোটের আগে ঈদ হাতে পেয়ে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি কোথাও কোথাও ‘ঈদি’ অর্থও বিতরণ করছেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নিহত, পঙ্গু ও গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ঈদ উপহারও পৌঁছে দিয়েছেন তারা। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা জানান, রমজানজুড়েই তারা ইফতার অনুষ্ঠান করেছেন। ঈদেও শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি এবং নগদ অর্থ দেয়ার কার্যক্রম করছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এবার তিনি ওই কারাগারেই ঈদ করবেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারো স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে ঈদ উদযাপন করবেন। প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও তার দুই মেয়েও তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গেই সেখানে ঈদ উদযাপন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজান মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা, ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও মো. শাজাহান নোয়াখালী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী ঘুরে এসেছেন। তারা ঈদের দিন বিকেলে অথবা পরের দিন নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালীতে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৩ এলাকায় রমজানজুড়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ঈদেও নেতা-কর্মী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, সরকারের বাধায় এই ধরণের কল্যাণমূলক কার্যক্রম করাও এখন কঠিন হয়ে গেছে। বিরোধী দলকে এই সরকার কোনো রাজনৈতিক স্পেসই দিচ্ছে না। তাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো গত্যন্তর নেই। এ লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সাইফুল আলম নীরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আবদুল মতিন, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শেখ মো. শামীম, ফজলে হুদা বাবুল (নওগাঁ-৩ : মহাদেবপুর-বদলগাছী), মোশাররফ হোসেন চৌধুরী (বগুড়া-১ : সারিয়াকান্দী ও সোনাতলা), মোশারফ হোসেন (বগুড়া-৪ : কাহালু-নন্দীগ্রাম), মেহেদী হাসান সুমন (দিনাজপুর-১ : বীরগঞ্জ-কাহারোল), গোলাম সারোয়ার, রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ : নবীনগর)সহ অর্ধশত তরুণ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।

কারাগারে ঈদ করবেন যারা : বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার কারাগারে ঈদ করা বিএনপির নেতাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী বেশ কয়েক বছর ধরেই কারাবন্দিদের সঙ্গে ঈদ করছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, য্বুদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানসহ তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী এবার কারাগারে ঈদ করবেন।

বিদেশে ঈদ যাদের : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র, ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু দুবাই এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় ঈদ করবেন।