বিএনপিকে ‘পথ’ দেখালেন নাসিম

বিএনপিকে ‘পথ’ দেখালেন নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সবাইকে সুলতান মো. মনসুর আহমেদের মত শপথ নিয়ে জাতীয় সংসদে এসে সরকারের কঠোর সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন চৌদ্দ দলের মুখপাত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চৌদ্দ দলের এক সভার পর ব্রিফিং থেকে তার এই আহ্বান আসে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করব বিএনপিসহ অন্যান্য দলের যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা পার্লামেন্টে আসবেন। পার্লামেন্টে এসে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবেন। সরকারের কঠোর সমালোচনা করবেন। এই পথে আপনাদের থাকতে হবে। “অন্য পথে শুধু প্রেস ব্রিফিং করে, নামকাওয়াস্তে কয়েকটি লোক দেখানো আন্দোলন করে আপনাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারবেন না।
 
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর কারচুপির অভিযোগ তুলে সংসদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সুলতান মনসুর জোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিয়েছেন।এভাবে তার শপথ নেওয়াকে ‘রাজনৈতিক ছলনা’ ও ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন বিএনপি নেতারা। আর গণফোরাম সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবারও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তারা শপথ নেবেন না, সংসদেও যাবেন না। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি ও তাদের শরিকরা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না। চৌদ্দ দলের মুখপাত্র নাসিম মনে করছেন, উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি নিজেদের ‘ধ্বংসের’ দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন বর্জন করে গত কয়েক বছরে তারা নির্বাচন ভন্ডুল করতে পারে নাই। আবারও তারা নির্বাচন বর্জন করে ভুল পথে গিয়ে দলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “নির্বাচন বর্জনের পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে বাধা সৃষ্টি করবেন না। আগামী নির্বাচনে, স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করবে।এই ব্রিফিংয়ে ১৪ দলের পক্ষ থেকে মার্চ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র নাসিম।তিনি বলেন, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে ১৪ দল। ১৯ মার্চ হবে আলোচনা সভা। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে স্মরণ সভা করা হবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন এবং ২৮ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা করবে চৌদ্দ দল।অন্যদের মধ্যে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া চৌদ্দ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।