বিএনপি নেতা শামসুল ইসলামের ইন্তেকাল

বিএনপি নেতা শামসুল ইসলামের ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : সাবেক তথ্যমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এম শামসুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে......রাজিউন)।  বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এই তথ্য জানিয়েছেন। শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এম শামসুল ইসলাম। এদিকে, শামসুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এম শামসুল ইসলাম ইন্দোনেশিয়ার হাই কমিশনার ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনবার তিনি সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে বাণিজ্য, টেলি যোগাযোগ ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম শামসুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তাকে প্রথমে ভূমি ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের শেষদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া এম শামসুল ইসলাম ২০১৪ সালে দলের কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। চার দলীয় জোট গঠনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিএনপি নেতারা জানান।

দাফন আজ : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুম শামসুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। শায়রুল কবির জানান, রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে মরহুম শামসুল ইসলামের মরদেহ রাখা হবে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হবে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে।

সেখানে সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের কফিন নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন দলের নেতা-কর্মীরা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে তৃতীয় দফা জানাজার পর দুপুরে এম শামসুল ইসলামের কফিন নিয়ে যাওয়া হবে মুন্সিগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার তিনসুড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ২০১৫ সালের জুন মাসে এম শামসুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার ইসলাম মারা যান। তারা দুই ছেলে এম সাইফুল ইসলাম ও মোনাদির ইসলামকে রেখে গেছেন।