বায়ু দূষণের ভয়াবহতা

বায়ু দূষণের ভয়াবহতা

বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। প্রতি দশজনের নয়জনই এখন বিষাক্ত বায়ুতে আক্রান্ত। ফুসফুস, হৎপিন্ড ও মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ৭০ লাখের মতো মানুষ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জলবায়ু পরিবর্তনকে এ বছর বিশ্বের শীর্ষ হুমকি হিসেবে দেখছে ডব্লিউএইচও। আরেক জরিপে বলা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে বায়ু দূষণের কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র চারটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করছে। বায়ু দূষণের কারণে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অন্তত এক লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদন যৌথভাবে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়া, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স এ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ও হেলথ ইফেকটস ইনস্টিটিউট।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বাস করছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্তমান সময়ে জন্ম নেয়া শিশুদের গড় আয়ু ২০ মাস কমবে। বাংলাদেশের বায়ুর মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান মাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। সংস্থাটির বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যে বায়ুর মান ধরে রাখতে পারলে যে দেশগুলো লাভবান হবে, তার মধ্যে সবার ওপরে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু তখন বাড়বে ১ দশমিক ৩ বছর। বায়ু দূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। তাদের সুরক্ষায় এখন থেকেই যতœবান হতে হবে। উন্নয়নের নামে ধুলিকনার প্রসার যাতে না হয় সে ব্যাপারেও নজর দিতে হবে। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলে, ঢাকার বাতাসও হবে বিশুদ্ধ, নির্মল। আর তা না হলে বড় বিপদ যে অবশ্যম্ভাবী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।