বাড়ছে বেকারত্ব

বাড়ছে বেকারত্ব

দেশের লাখ লাখ মানুষ বেকার বা অর্ধ বেকার। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আগ্রাসীভাবে বাড়ছে। দেশে চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান না হওয়ায় প্রতি বছর নতুন করে বেকার হচ্ছে আট লাখ কর্মক্ষম মানুষ। দেশের অর্থনীতিতে দুটি ভাবনার বিষয় হচ্ছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। অন্যটি হচ্ছে প্রবৃদ্ধির সুফল সর্বত্র সমানভাবে পৌছাচ্ছে না। ফলে সর্বোচ্চ ধনী ও সর্বনিম্ন দরিদ্রের মধ্যে মারাত্মক আয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ৩০ বছর আগে যেখানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে ধনীর আয় বেড়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ, সেখানে ২৫ বছর পর ২০১৫-১৬ সালে বৃদ্ধি পায় প্রায় ২৮ শতাংশ। একই সময়ে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি ১ শতাংশ থেকে ০.২৩ শতাংশে নেমেছে। এই বৈষম্য দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে বেকারত্ব বৃদ্ধির জানান দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশে ১৫ লাখ শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এ সময় দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। ফলে এক বছরেই প্রায় এক লাখ বেকার বেড়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বেকার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বেকারত্বের হার বৃদ্ধি দেশের যুব সমাজের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো বিশাল জনসংখ্যার একটি দেশে বেকারত্ব হ্রাসে সুদূরপ্রসারী, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। একটা বিষয় স্পষ্ট যে, কারিগরি শিক্ষার যে দাপট সারা বিশ্বে চলছে, সেদিকে আমাদের তেমন খেয়াল আছে বলে মনে হয় না। দেশে কারিগরি শিক্ষা এখনো মেইনস্ট্রিমের শিক্ষায় আসতে পারেনি। দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে। শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেকারত্বের অবসানে কর্মংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। স্থিতিশীলতার স্বার্থেই বেকারত্ব মোচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।