বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

ক্রমশ সংঘাতমুখর হয়ে উঠছে নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের জনপ্রত্যাশা ম্লান হতে যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রমেই আরও বেশি সংখ্যক সংঘর্ষের খবর আসছে। শুধু সমর্থকদের ওপর হামলা সীমাবদ্ধ নেই, কোথাও কোথাও খোদ প্রার্থীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। দলীয় অফিস বা নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। কর্মিরা হতাহত হচ্ছে। নির্বাচনে আসার আগে থেকেই প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু সেটা এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না। প্রার্থীরা দাবি করছেন যা প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে যে, নির্বাচনী প্রচারে হামলার শিকার হয়েও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। অথচ নির্বাচনকালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক সন্ত্রাস সহিংসতা সহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের সংবিধান নির্দেশিত দায়িত্ব।

সুতরাং এ অবস্থায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এখন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি হামলার ঘটনায় আক্রান্তদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সে রকম কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন নির্বাচনী মাঠে যে পরিস্থিতি চলছে তা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না -অবাধ, প্রশ্নম্ক্তু নির্বাচনই সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিতকরণের পথ সুগম করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন শুধু বিব্রতবোধ করেই তার দায়িত্ব শেষ করেছে যা প্রত্যাশিত নয়। বিভিন্ন স্থানে হামলা বা সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বা উপযুক্ত ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ হচ্ছে গণমাধ্যমে প্রতিদিনই। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের নির্ভয়ে ও অবাধে প্রচারণা চালানোর অধিকার রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। না হলে তাদের ভূমিকা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।