বার্সার কাছে হৃদয় ভাঙলো ইন্টারের

বার্সার কাছে হৃদয় ভাঙলো ইন্টারের

ঘরের মাটিতে পরাজয়ের যন্ত্রণা ইন্টার মিলানের চেয়ে বেশি আর কে বুঝবে? তাও আবার এমন এক সময়, যখন শেষ ষোলো হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। কিন্তু সান সিরোর দর্শকদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই। জয়ের জন্য একটি গোলের পেছনে ছুটতে গিয়ে উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বসে আন্তনিও কন্তের দল। তাতেই বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইন্টারের। 


চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের ডেথ গ্রুপ ভাবা হচ্ছিল ‘এফ’-কে। সেই গ্রুপেই পড়েছে বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, বরুসিয়া ডর্টমুন্ট ও স্লাভিয়া প্রাগের মতো দলগুলো। তাতে কপাল পুড়েছে নেরাজ্জুরিদের।

কাতালানরা আগেই ১১ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফেললেও শেষ রাউন্ডে ঝুলছিল ইন্টার ও ডর্টমুন্ডের ভাগ্য। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে দু’দলের পয়েন্ট ছিল সমান সাত। তবে দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে ছিল ইন্টার। ঘরের মাঠে বার্সার বিপক্ষে ড্র হলেও চলতো তাদের। কিন্তু সেই অগ্নিপরীক্ষায় ব্যর্থ কন্তের দল। অন্যদিকে ঘরের মাটিতে স্লাভিয়া প্রাগকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে রানার-আপ হয়ে বার্সেলোনার সঙ্গী হয়েছে ডর্টমুন্ড। 

কঠিন এক সমীকরণকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে বার্সাকে আতিথেয়তা দেয় ইন্টার। ম্যাচটিতে জয়ের ভালো সুযোগ পেয়েছিল তারা। বার্সার স্কোয়াডে ছিলেন না তাদের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি, জেরার্ড পিকে ও সের্গি রবার্তোর মতো তারকারা। কিন্তু তাতেও তারুণ্যনির্ভর আরনেস্তো ভালভার্দের দলের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ইন্টার। 

অবশ্য ইন্টার মিলান দুভার্গের শিকারই বলা যায়। নয়তো দুর্দান্ত খেলা লওতারো মার্তিনেসের দু-দু’টি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়! তেমন এক দুর্ভাগ্যপ্রবণ ম্যাচে হৃদয় ভেঙেছে ইন্টার সমর্থকদের। 

শেষ ষোলোয় যাওয়ার জন্য জন্য মাঠে নেমে ২৩ মিনিটে গোল হজম করে বসে কন্তের শিষ্যরা। বার্সাকে এগিয়ে দেন চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা কার্লেস পেরেজ। তবে বিরতিতে যাওয়ার কিঞ্চিৎ আগেই নেরাজ্জুরিদের সমতায় ফেরান রোমেলু লুকাকো। ৪৪ মিনিটে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দেন এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। 

দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সার আক্রমণ প্রতিহত করে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠছিল ইন্টার। কিন্তু ম্যাচের ৬২ মিনিটে আমূল পাল্টে যায় কন্তের মুখ। কারণ আরেক ম্যাচে ডর্টমুন্ড তখন স্লাভিয়া প্রাগের বিপক্ষে এগিয়ে গেছে ২-১ ব্যবধানে। ফলে সমীকরণটা এমন দাঁড়ায় যে, জিততেই হবে ইন্টারকে। সেই কাজ করতে গিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় স্বাগতিকরা। আশায় বুক বেঁধে থাকলেও সান সিরোর সব স্বপ্ন উবে যায় মুহূর্তেই। ৮৬ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নিচু শটে ইন্টার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বদলি খেলোয়াড় আনসু ফাতি। সদ্য ১৭ পেরোনো এই ফরোয়ার্ড মাঠে নেমেছিলেন তখন দুই মিনিটও হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাতির এটি তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোল। 

ম্যাচের বাকি সময়টাতে সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি ইন্টার। গত আসরের মতো এবারও তাদের বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্বেই। এবারও তাদের ঘাতকের নাম বার্সা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে টটেনহামের সমান আট পয়েন্ট পেয়েও মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় হৃদয় ভাঙে ইন্টারের।

চলতি মৌসুমে ছয় ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় তাদের সঙ্গী জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ড। ইন্টারের পয়েন্ট সাত। দুই পয়েন্ট পেয়ে আগেই বিদায়ের খাতায় নাম লিখে ফেলেছিল স্লাভিয়া প্রাগ।