বাবু গাছতলা থেকে কবে চলে যাবেন : তথ্যমন্ত্রী

বাবু গাছতলা থেকে কবে চলে যাবেন : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি ছেড়ে যাবেন এমন নেতাদের তালিকায় আরও বহুজন রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির কয়েকজন নেতার দলত্যাগের বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে একটি বটগাছ এই বটগাছের নিচে মানুষ আসবে বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কয়েকজন সিনিয়র নেতা যে দল ত্যাগ করে চলে গেছেন, সেই প্রসঙ্গে তিনি এই কথা বলেছেন। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে গয়েশ্বর বাবু কখন বিএনপির বটগাছ থেকে চলে যাবেন। সেই প্রশ্ন অনেকে করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে যেভাবে তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন, বিএনপি ছেড়ে যাচ্ছেন, এই ছেড়ে যাওয়ার লিস্টে আরও বহুজন আছে। সেগুলো ভবিষ্যতে বিএনপি দেখতে পাবে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে গয়েশ্বর বাবু নিজের হতাশা কাটাতে আত্মতুষ্টির জন্য এই কথা বললেও তাদের দলত্যাগ তারা ঠেকাতে পারবে না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) নেতিবাচক রাজনীতি করে। রাজনীতি হচ্ছে ব্রত, রাজনীতি মানুষের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তাদের রাজনীতি গত ১১ বছর ধরে মানুষের কল্যাণে আবর্তিত হয়নি। তাদের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং খালেদা জিয়ার মামলা, তারেক জিয়ার মামলা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি। এই বিষয়গুলো নিয়েই তাদের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে।’

‘তারা এই বিষয়গুলোতে ফুটিয়ে তোলার জন্য জঘন্য পথ অবলম্বন করেছে, জনগণের উপর আক্রমণ করা, বোমা হামলা চালানো, এজন্য তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এটির কারণেই তাদের দলের নেতারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া বিদেশ থেকে যেভাবে দলকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাদের দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু নেই। এখানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। সিদ্ধান্ত আসে বিদেশ থেকে। তাদের দণ্ডপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে। সমস্ত অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। সেই কারণেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে’ বলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান।


তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গয়েশ্বর বাবু এই কথা বলে আত্মতুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করলেও এতে আত্মতুষ্টি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল আমাদের অনেকে প্রশ্ন করেছে, গয়েশ্বর বাবু বিএনপির গাছতলা থেকে কবে চলে যাবেন?’