বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে বাংলাদেশে উত্তেজনা নয়

বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে বাংলাদেশে উত্তেজনা নয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ভারতের বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো উত্তেজনার মধ্যে থাকবে না। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব।

শনিবার রাজধানীতে সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৯ এ যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে ভারত বর্ষে যেন শান্তি বজায় থাকে, সেটিই আশা করে বাংলাদেশ। আমি আশা করব, তাদের ওখানে সম্প্রীতি বজায় থাকবে।’

বাবরি মসজিদের রায় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না। কারণ, আমি রায়ের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু দেখিনি।

‘তবে বাংলাদেশে আমরা সম্প্রীতি সমঝোতার মধ্য থাকি। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই আমাদের থাকতে হয়। আমাদের দেশের মানুষের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তাতে এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না বলেই আশা করি,’ বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২৭ বছর ধরে মামলা চলার পর, ভারতের শীর্ষ আদালত শনিবার অযোধ্যা মামলার বিতর্কিত ২ দশমিক ৭৭ একর জমির রায় দিয়েছে রাম মন্দিরের পক্ষে এবং মসজিদের জন্য ৫ একর বিকল্প জমি দেয়া হয়েছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে।


৫০০ বছরের বিতর্ক এবং ১৩৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ভারতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার রায় দিলেন ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ের জন্য প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি অশোক ভূষণ, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, এসএ বোবদে এবং এস আবদুল নাজির।

ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। অযোদ্ধার বিতর্কিত এই ভূমি মালিকানাকে কেন্দ্র করে সে বছর হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ষোড়শ শতকের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশটির কট্টরপন্থী হিন্দুরা অযোদ্ধায় মন্দির নির্মাণ করতে গেলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়।