বাবরি মসজিদ রায় পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন

বাবরি মসজিদ রায় পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ বনাম রাম জন্মভূমি বিতর্ক মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করেছে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ। গতকাল সোমবার জমিয়ত প্রধান মওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, দেশের মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ওই রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ওই মামলার পুনরায় শুনানির দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা চাইছি এর সুবিচার হোক। আমরা আদালতের রায়ে খুশি নই এটা খুব পরিষ্কার কথা। বাবরি মসজিদের তথ্যভিত্তিক কোনও বিচার হয়নি, আবেগের ভিত্তিতে রায় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
পুনর্বিবেচনার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের আদেশ স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। ওই আদেশে আদালত বিতর্কিত জমিকে রাম মন্দিরের জন্য দিতে বলেছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে আদেশ দিক যাতে মন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্ট না তৈরি করা হয়। 
আবেদনে বলা হয়েছে- সুপ্রিম কোর্ট ১৯৩৪, ১৯৪৯ এবং ১৯৯২ সালে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যায়কে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে কিন্তু তা উপেক্ষাও করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ণ ন্যায়বিচার কেবল তখনই করা হবে যখন মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। ওই কাঠামোটি সবসময়ই একটি মসজিদ ছিল এবং তাতে মুসলিমদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছিল।
জমিয়তের শীর্ষ নেতা আরশাদ মাদানী বলেন, আদালতই আমাদের অধিকার দিয়েছে মামলা করার, সেজন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। অযোধ্যা মামলায় বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু ছিল মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ তৈরি হয়েছিল কিনা। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, মন্দির ধ্বংস করেই যে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, এমন কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং মুসলিমদের অধিকার প্রমাণিত। অথচ চূড়ান্ত রায় এর বিপরীতধর্মী। আমরা রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছি কারণ, রায় বোধগম্য  হয়নি।
এদিকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের পক্ষ থেকেও রিভিউ পিটিশনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হবে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারকে মসজিদের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।