বাতাসে জীবন ক্ষয়

বাতাসে জীবন ক্ষয়

ঢাকার বায়ু দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক একাধিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর এই রাজধানী শহর। বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুহারে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তাই পঞ্চম। তবে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ দেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়বে এক দশমিক তিন বছর। এটা বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য। গত বছর পর্যন্ত ভারতের দিল্লি এবং ২০১৫-১৬ সালে সিরিয়ার দামেস্ক সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে উঠে এসেছে। নয়া দিল্লি নেমেছে এক ধাপ নিচে, দ্বিতীয় স্থানে। ভয়াবহ বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এখন বিষাক্ত বায়ুতে আক্রান্ত। এর ফলে ফুসফুস, হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ৭০ লাখের মতো মানুষ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)’র এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত এ তথ্য আমাদের নতুন করে চমকে দিয়েছে। রাজধানীবাসীকে এই দু:সহ অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। আমরা মনে করি, বায়ু দূষণের ভয়াবহতা রোধে যেমন কাজ করতে হবে তেমনি বায়ু দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং এ থেকে রক্ষা পেতে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো অনুধাবন করতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই এ বিপদ মোকাবিলায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সরকার ও পরিবেশ সংগঠন শুধু নয়, নাগরিকদেরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ু দূষণ বন্ধে কল-কারখানা ও ইট ভাটার দূষণ বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। নগর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাতে হবে। বায়ু দূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। তাদের সুরক্ষায় এখন থেকেই যতœবান হতে হবে।