বাটলারকে ‘ম্যানকাড’ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে সরব অশ্বিন

বাটলারকে ‘ম্যানকাড’ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে সরব অশ্বিন

ক্রিস গেইল ঝড়ে আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮৪ রান। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জশ বাটলারের হিসেবি ব্যাটিংয়ে জবাবটাও সমানে সমান দিচ্ছিল রাজস্থান রয়্যালস। ১২ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে ফেলে তারা।

শেষের ৮ ওভারে জয়ের জন্য তখন করতে হতো ৮০ রান। ১৩তম ওভারটি করতে আসেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন। প্রথম ৪ বল থেকে তিনটি সিঙ্গেল নেন সাঞ্জু স্যামসন এবং জশ বাটলার। পঞ্চম বলেই আলোচিত ঘটনার জন্ম দেন অশ্বিন।


নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বোলিং করতে আসছিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক। পপিং ক্রিজের মধ্যে বোলিং অ্যাকশনজনিত সহজাত লাফ দিয়ে হাত ঘোরানোর সময় থেমে যান তিনি। ভালোভাবে সময় নেন বাটলার পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যান কি-না দেখতে। ওদিকে নন স্ট্রাইকে বাটলার জানেনও না বল ছোঁড়েননি অশ্বিন, বরং তাকে রানআউট করার জন্য ওৎ পেতে আছেন।

যেই না পপিং ক্রিজ ছাড়েন বাটলার, সঙ্গে সঙ্গে বেলস ফেলে দিয়ে রানআউটের আবেদন করেন অশ্বিন। টিভি রিপ্লে দেখে বাটলারকে রানআউটের সিদ্ধান্ত জানান থার্ড আম্পায়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ বিশেষ আউটের নাম ‘ম্যানকাডিং আউট’। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ভিনু মানকড় এ আউটের জনক বলে তার নামানুসারেই দেয়া হয়েছে এই নাম।

ক্রিকেটের নিয়মে এটি বৈধ হলেও বর্তমান সময়ে এটা এখন আর হয় না। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে কোটনি ওয়ালশ পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান সেলিম জাফরকে একইভাবে আউট না করে বিশ্ব নন্দিত হয়েছিলেন 
আর এবার অশ্বিন হলেন নিন্দিত ও সমালোচিত। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে অশ্বিনের মুন্ডুপাত।

ম্যানকাডিং আউট বলতে বোঝায় বোলার যখন বোলিংয়ের জন্য পপিং ক্রিজের মধ্যে আসেন, তখন তিনি হাত ঘোরানোর আগেই যদি ব্যাটসম্যান দাগের বাইরে বেরিয়ে যান তাহলে বোলার চাইলে রান আউট করতে পারেন। এ আইনের সুবিধা নিয়ে বাটলারকে ফেরান অশ্বিন।

দলীয় ১০৮ রানে ডাগআউটে ফেরত যান ৪৩ বলে ৬৯ রান করা বাটলার। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রাজস্থানের ইনিংস। শেষপর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানে থামে তাদের ইনিংস। ১৪ রানের জয়ে আসরের শুভসূচনা করে পাঞ্জাব।

স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বারবার উঠে আসে এই ম্যানকাড আউটের প্রসঙ্গ। প্রতিবারই জোরালো গলায় নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে যান রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্বিন বলে আসেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা কেন হবে? আমি তো তখনো বোলিংয়ের জন্য হাতও ঘুরাইনি, এর আগেই সে (বাটলার) ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যায়। ফলে অবশ্যই এটা আমার জন্য সুযোগ ছিলো। কারণ ক্রিজের ঐ জায়গাটা আমার তথা বোলারদের।’

পরে সংবাদ সম্মেলনেও প্রায় একই ঢঙে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যান অশ্বিন। তিনি বলেন, ‘দেখুন এটা পুরোপুরি সহজাত একটা ব্যাপার। আমার কাছে এটা পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিলো। এটা অবশ্যই পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো না। নিয়মের মধ্যে থেকেই যা হওয়ার হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না এর মধ্যে ক্রিকেটীয় স্পিরিট কোথা থেকে আসলো। এটা তো আইসিসির নিয়মের মধ্যে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসলেই বুঝতে পারছি না এখানে ক্রিকেটীয় স্পিরিটের বিষয় আলোচনা করার জায়গা কোথায়। কারণ এটা তো নিয়মের মধ্যেই আছে। যেটা একজনের জন্য ঠিক মনে হয়, সেটা হয়তো আরেকজনের জন্য অন্যরকমও হতে পারতো। আমি বা বাটলার কেউই এক নয়। আমি আমার খেলেছি, যেমনটা বাটলার করছিল।’

তবে ম্যানকাডিং আউটের ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি রাজস্থানের অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সেই আউটের ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। তবে আমি নিশ্চিত ম্যাচ রেফারি এই ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবেন।’