বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ নজাবত আলী : ১৯৬৮ সাল থেকে রমনার বটমূলে নানা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাংলা  নববর্ষবরণ শুরু হয় যা আজও অব্যাহত রয়েছে। তাই বাংলা নতুন বছর এলেই বাঙালির প্রাণে দোলা দেয়, এসো এসো হে বৈশাখ, এসো এসো এই আহ্বানের ও মধ্য দিয়ে। শুভ নববর্ষে ও পহেলা দিনটি মূলত বিগত দিন,পুরানো সকল জঞ্জাল, অপূর্ণতা সরিয়ে দিয়ে জীবনের সকল ক্ষেত্রে পূর্ণতা আনার লক্ষ্যে প্রাণশক্তিতে তেজোদীপ্ত হওয়ার দিন। অঙ্গীকারের দিন।বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির ঐতিহ্য। বাঙালির রয়েছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক পরিচয়। প্রত্যেক জাতির জাতীয় সম্মান ও আশা, আকাঙ্খার প্রতীক যেমন তার মাতৃভাষা,তেমন মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বাঙালির সংস্কৃতি। তাই আবহমান কাল থেকে আমরা বাংলা নববর্ষকে বরণ করি নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে। আর এ সব উৎসব পালন করে বাঙালি তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক টানে।হালখাতা, বৈশাখী মেলা,নাচ, গান, মঞ্চ নাটক, পথ নাটক, আবৃতি. চিত্রকলা, প্রদশর্নীও মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করা হয়। আর এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হচ্ছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের সাস্কৃতিক ধারা। এগিয়ে যাচ্ছে সময়ও জীবন। জীবন স্থির নয়। চলমান জীবনে বাহ্যিক রূপই সংস্কৃতি। তাই বাঙালি তার সাংস্কৃতিক ধারাকে গতিশীল করার জন্য নানা উৎসবের আয়োজন করে। কিন্তুু আয়োজনে অতীতে বাধা আসলেও তা ব্যাহত করতে পারেনি। সকল বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ধারা আরো শক্তিশালী ও বেগবান হয়েছে। নববর্ষের বিভিন্ন উৎসব, আনন্দ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিকটি ফুটে উঠে। আমাদের আত্মপরিচয় যত ব্যাপক হবে ততই বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব বাড়বে। আমাদের নিজস্ব পরিচয়ের ধারাটি যত বেগবান, ততই চলার পথ সহজ হবে।

পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিষ্ঠিত দিন। তাই এটি  হয়েছে বাঙালির জাতীয় উৎসব। আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা এনে দিয়েছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও স্বাধীন বাংলাদেশ। এটা যেমন ধ্র“ব সত্য তেমনি সকল প্রকার সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা কখনও পরাজিত হয়নি। আমাদের চলার পথকে রুদ্ধ করতে পারেনি। নিজস্ব প্রাণশক্তিতেই আমাদের চেতনা বিকশিত হয়েছে।নতুন বছরের শুভাগমনে আমরা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কামনা করি। কামনা করি সেই সমাজে, যে সমাজে থাকবেনা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। সকল প্রকার ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধ্বে থেকে একে অপরের সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখতে হবে। পরাধীন শাসনে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়  আমরা দরিদ্র ছিলাম। কিন্তু এখন তো আমরা পরাধীন নই। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও একটি জাতি সন্ত্রাস, দূর্নীতি ও দারিদ্রের বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে এমনটি আশা করা যায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের । আমাদের কী নেই? আমাদের যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। শক্তিশালী যুব সমাজ রয়েছে। নববর্ষে ও সুচনা লগ্নে যুগোপযোগী ও বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে এই সম্পদ ও অমিত শক্তি যুব সমাজকে দেশের উন্নয়নের লক্ষে লাগাতে হবে। তাহলে আমাদের দেশ-জাতি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। আসুন, নতুন বছরের শুভ প্রভাতে দেশের কল্যাণে আমরা মানবতা, সামাজিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, দূর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাকল্পে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতাবোধ যেমন জরুরি তেমনি সকল মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখি। এই প্রত্যাশায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালির আত্মপরিচয় নববর্ষ বরণের এই ক্ষণে আমরা স্বাগত জানাই বাংলা নববর্ষকে। শুভ নববর্ষ।
লেখক: শিক্ষক-কলামিস্ট
০১৭১৯-৫৩৬২৩১