বাংলাদেশ এগোচ্ছে

বাংলাদেশ এগোচ্ছে

স্বাধীনতার পর যে দেশকে অভিহিত করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে সে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিপুল বিক্রমে। গত দুই দশকে অর্থনৈতিকভাবে অভূতপূর্ব সাফল্য ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। সেবা খাতের আয় রেকর্ড ছাড়িয়েছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার। গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৫৬ শতাংশ বেশি। এমনকি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার থেকেও ১৭ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। বিশ্বখ্যাত ফিন্যানসিয়াল টাইমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদভাষ্যে বাংলাদেশকে দেখা হচ্ছে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে। এক সময় যে দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে অবজ্ঞা করা হতো, সাড়ে চার দশক পর সে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়, এ দেশের সামনে অপেক্ষা করছে আলোর ঝলক। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্য দেখাচ্ছে যেসব দেশ, বাংলাদেশের স্থান সে তালিকার উপরের দিকে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিক থেকে ভারত বাদে অন্য সব দেশ পিছিয়ে। দরিদ্রতম দেশ থেকে ইতিমধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম দেশ। চলতি বছর এ খাতে বাংলাদেশ ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার আয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রায় ১ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছে। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি পুরনো পোশাকের দিকে তাকিয়ে থাকত। সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। প্রথম স্থানে অবস্থানকারী চীনের সবচেয়ে সক্ষম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অর্ধ শতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ। সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশ এখন নন্দিত। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ দাতা সংস্থাগুলোকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই অভ্যুদয় ঘটেছে দেশের পরিশ্রমী মানুষের অকøান্ত শ্রমে।