বাংলাদেশ আমার অহংকার

বাংলাদেশ আমার অহংকার

আবু জাফর সিদ্দিকী: বিশ্বের একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম বাংলাদেশ। সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত রক্ত দিয়েছে বাংলা ভাষার জন্য। বিশ্বের বুকে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল তারা। বিশ্বে একমাত্র বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেয়া জাতি বাঙালি জাতি। ভাষা তো রক্ষা হলো এবার আন্দোলন ভূখন্ডের জন্য। শুরু হলো ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর একটি স্বাধীন ভূখন্ডের জন্ম হলো। নাম তার বাংলাদেশ। আমরা বাঙালি জাতি, গর্বিত জাতি। নিজেদের গর্ব করার মত একটি দেশের নাগরিক আমরা। পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ। এদেশের প্রকৃতি-সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, খাল-বিল আর বিশ্বের সবচেয়ে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার বিদেশী পর্যটকদেরকেও আকৃষ্ট করে। বগুড়ার মহাস্থানগড়, নাটোরের চলনবিল, রাজশাহীর পদ্মার পাড়, বান্দরবানের নীলাচল, খাগড়াছড়ির স্যাজেক ভ্যালী, নওগাঁর পাহাড়পুর দেখে মনে হয় এদেশে জন্মে আমরা গর্বিত। বার বার বলতে ইচ্ছে হয় বাংলাদেশ আমার অহংকার। বৈশাখী উৎসব, নবান্ন উৎসব, মেলা-পার্বণ এদেশের ঐতিহ্য। ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার নারী-পুরুষ এসব ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। গ্রামের মেঠোপথ, পাহাড়ের ঢালুপথ, সমুদ্রের নানান রকম মাছ, নদীর বুক চিরে যাওয়া পাল তোলা নৌকা, ফসলে ভরা মাঠ, দেশজুড়ে সবুজের সমারোহ এ সবকিছুই বাংলার রুপ। আমরা মুগ্ধ হই এ দেশের রূপ মাধূর্য দেখে। বার বার প্রেমে পড়ে যাই বাংলার রূপের।
১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য লড়াই করার কারণে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করায় আমরা গর্বিত। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা করায় সারাদেশে ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করায় ১৬ই ডিসেম্বর সারাদেশে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়। সামনে আসছে মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নিজেদের পরাজিত ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পন করে। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। এখন আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। বিশ্ববাসী এদেশকে দেখে প্রশংসা করে, প্রশংসা করে লাল-সবুজের পতাকার। আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।
লেখক ঃ সংবাদকর্মী, নাটোর
০১৭৬৪-৯৯৩০৯৬