বস্তিতে আগুন

বস্তিতে আগুন

ইট কাঠের এ শহরে নিম্নবিত্ত মানুষদের আবাসস্থল বস্তি আবারা পুড়ে ছাই হলো। ভোরের আলো ফোটার আগেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে বনানীর টিএ্যান্ডটি বস্তি। ঘুমের মধ্যেই আচমকা অগ্নিকান্ডের ঘটনায় চিৎকারে সবাই প্রাণ হাতে বের হতে পারলেও রক্ষা হয়নি শেষ সম্বলটুকু। কারো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সবকিছুই। শনিবার ভোর পোনে চারটার দিকে রাজধানীর বনানীর টিএন্ডটি বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিটের চেষ্টায় ভোর পাঁচটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরোপুরি আগুন নির্বাপণে আরও প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লাগে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় দুইশ ঘর। কীভাবে আগুন লেগেছে তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০টি পরিবারের তালিকা করেছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল ও নগদ দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা এক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, এভাবে যদি একের পর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে থাকে তবে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক।

সঙ্গত কারণেই বিষয়টি আমলে নিতে হবে। প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লিকেজ বা বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গত বছর দেশে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২২ হাজার ২৮৩টি। ২০১৮ সালের তুলনায় যা প্রায় তিন হাজার বেশি। এ ছাড়া গত বছরের অগ্নিকান্ডে প্রাণহানি ঘটেছে ১৮৬ জনের বলেও জানা গিয়েছিল। অগ্নিকান্ড থেকে রেহাই পায়নি বস্তি থেকে শুরু করে কেমিক্যাল গোডাউন কিংবা আধুনিক বহুতল ভবনও। অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও সতর্ক না হওয়ায় অগ্নি দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারখানায় আগুন, মার্কেটে আগুন বিভিন্ন ভবনে আগুনসহ সামগ্রিকভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে যে কোনো মূল্যে। কেননা একটু সচেতনতা ও সাবধানতা আমাদের রক্ষা করতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে অগ্নিকান্ডের মতো ভয়ানক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হোক এমনটি কাম্য।