বর্জ্যে ভরাট ঢাকার নদী-খাল

বর্জ্যে ভরাট ঢাকার নদী-খাল

নদী দখল হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। প্রতিবাদ আসছে কিছু সংগঠন থেকে। কিন্তু যারা প্রতিকার করবে তারা চোখ বন্ধ করে বসে আছে। যে বুড়িগঙ্গা এক সময় ঢাকার গর্ব ছিল তা শিল্প বর্জ্যে এত কলুষিত হয়েছে যে তার পানিকে  কালির সঙ্গে তুলনা করা যায়। অনেকাংশে নদীর পানি আর বহমান নয়। বর্জ্যরে ভারে পানি স্থবির হয়ে আছে। পানিতে অক্সিজেন নেই। নদীর প্রাণিগুলো মরে যাচ্ছে। এ কাহিনী পুরনো। গণমাধ্যমের সংবাদে জানা গেছে রাজধানীর দুটি সিটি করপোরেশনের বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে আশে পাশের নদী ও খাল। তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন আবর্জনা উৎপাদিত হয় প্রায় ৭ হাজার টন। কিন্তু করপোরেশন দৈনিক অপসারণ করতে পারছে মাত্র চার হাজার টন। নানা জটিলতায় রোজকার বর্জ্য অপসারণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

জনবল সংকট ও আন্ত:বিভাগ সমন্বয়হীনতার কারণে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী হচ্ছে না বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। রাজধানীর ৪৩টি খাল দখল করেছে অন্তত ১০ হাজার ৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মি। ওয়াসার নথিতে রাজধানীর ৪৬টি খালের মধ্যে ২০টি বিলীন এবং ২৬টি অস্তিত্বের কথা উল্লেখ আছে। এই ২৬টি খালও এখন অস্তিত্বের সংকটে। বুড়িগঙ্গা নদীর সদর ঘাট এলাকায় প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ২৪ মিলিগ্রাম। রাজধানীর অস্তিত্বের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব জড়িত। ঢাকার চার পাশের নদী বাঁচানোর জন্য হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কিন্তু দখল বন্ধ হচ্ছে না। একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলে, অন্যদিকে নতুন করে দখল হয়। বর্জ্য অপসারণে এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে।