বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি সব কয়টি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যা উত্তর-মধ্যাঞ্চলের বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ মানিকগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি এবং তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিগত ৫০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। এই অবস্থায় সংসদীয় কমিটি বন্যা কবলিত এলাকায় চাল, ডাল, লবণ, তেল, চিড়াসহ সকল প্রকার খাদ্য দ্রুত পাঠানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার নদী ছাড়া দেশের সব নদীর পানিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরবর্তী ২৪ ঘন্টা যমুনার পানি বাড়বে। এ সময় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকারের এখন প্রধান কাজ বন্যা কবলিত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া। খাদ্য ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করাও জরুরি। এ ছাড়া বন্যার সঙ্গে সঙ্গে আসে পানিবাহিত রোগ বালাই। খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া বন্যার পানির কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্যার্তদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সাহায্য দিতে হবে। চাহিদামতো খাদ্য শস্য ও অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। বন্যা দুর্গত মানুষের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।