বনরক্ষার বিকল্প নেই

বনরক্ষার বিকল্প নেই

বাংলাদেশকে বলা হতো সবুজ নিসর্গের দেশ। সে পরিচিতি ক্রমেই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছে আমাদের ভুলে। দেশের প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমি অনেক কম। এর মধ্যে বনখেকোদের হাত থেকে বনকে বাঁচানো যাচ্ছে না। অর্থ লিপ্সার কারণে অক্সিজেনের জোগান দেওয়া গাছ নির্বিচারে নিধন চলছেই। পত্রিকায় প্রকাশ, রাবার বাগান ও সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ মধুপুর গড়ের প্রাকৃতিক বন উজাড় করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে সেখানকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, এভাবে চলতে থাকলে মধুপুর বন একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন কর্মকর্তারা। মধুপুর গড়ে ১৯৮৯ সালে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ ছিল ৪৩ শতাংশ। ২০০৭ সালে তা নেমে আসে ২৯.৮ শতাংশে। এখন তা আরও কমছে। এদিকে গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে গাজীপুর বনদখলের চিত্র। ওই এলাকার বনভূমি বিক্রি হচ্ছে প্লট এবং বাড়িসহ জায়গা। স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল এবং বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগসাজসে বনের জমি বিক্রি করে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হচ্ছে বনখেকোরা।

সরকারি বন দখলে এদের দৌরাত্ম্য যেমন বাড়ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য। তবে মাঝে মধ্যে ঢাকার বন বিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা হলেও পরবর্তীতে আবারও দখল হচ্ছে বনের জায়গা। দেশে বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দিন দিন প্রকৃতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি হঠাৎ বন্যা, ঝড়, তাপমাত্রা বৃদ্ধিই তার নমুনা। আমরা বার বার বলছি, দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করতে হলে বনভূমি রক্ষা করতে হবে। তারপরও গাছ কাটা এবং দখলবাজি কমছে না। যে কোনো মূল্যে ভূমি দস্যুদের হাত থেকে বনভূমিকে রক্ষা করতে হবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে হলে বনরক্ষার বিকল্প নেই।