বন রক্ষায় সোচ্চার বলিউড তারকারা

বন রক্ষায় সোচ্চার বলিউড তারকারা

আরে বন ধ্বংসের প্রতিবাদে সামিল শ্রদ্ধা কাপুর

‘মুম্বাইয়ের ফুসফুস’ বলে পরিচিত আরে বনের ২ হাজার ৭০০ গাছ কেটে ফেলার অনুমোদন দিয়েছে বৃহনমুম্বাই পৌরসভা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের কাতারে এসে সামিল হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর, দিয়া মির্জা, রাভিনা ট্যান্ডন, এশা গুপ্তা, অভিনেতা রণদীপ হুদা, কমেডিয়ান কপিল শর্মা, প্লে-ব্যাক সঙ্গীতশিল্পী শানসহ অনেকে।


রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) আরে বনের সামনে এক মানববন্ধন করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা। এতে বিভিন্ন পেশার শতাধিক মানুষের মধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন এসময়ের অন্যতম ব্যস্ততম অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর। তার টি-শার্টে লেখা ‘আরে বাঁচাও’। বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার পাশে ঠাই দাঁড়িয়ে প্লাকার্ড হাতে প্রতিবাদে শামিল হন শ্রদ্ধা। 

আরে বাঁচাও আন্দোলনে শ্রদ্ধা কাপুরসম্প্রতি ভেগান হওয়ার ঘোষণা দেওয়া পরিবেশবাদী অভিনেত্রী শ্রদ্ধা পৌরসভার এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। তিনি ইনস্টাগ্রামে লাইভে এসে বলেন, আমরা প্রকৃতি মাকে রক্ষার জন্য একত্র হয়েছি। ইতোমধ্যে দূষণজনিত সমস্যায় ভুগছি আমরা। এ পরিস্থিতিতে গাছ কাটার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো?

ক্ষুব্ধ শ্রদ্ধা আরও বলেন, মুম্বাইয়ের ফুসফুসকে কেটে ফেলার অনুমতি আপনার কীভাবে দেন? ২৭০০’র বেশি গাছ কেটে ফেলা হবে। এই অনুমোদন একদমই অদ্ভুত! এটা হতে পারে না।

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিছুদিন আগেই পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সারাবিশ্বে নন্দিত হয়েছেন। দেশের মানুষও উচ্ছ্বাস দেখিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে তার প্লাস্টিকবিরোধী অভিযানের ঘোষণাও সবাই সাদরে নিয়েছে। আর তার জামানাতেই কিনা একটা বন ধ্বংস করা হবে!

সঙ্গত কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্যাগ করে অভিনেতা রণদীপ হুদা টুইটারে লেখেন, এটা সত্যিই দুঃসংবাদ। আমরা অসহায় নাগরিকরা কী এমন করতে পারি? আমাজনের আগুনের জন্য আমরা কান্নাকাটি করি। অথচ ঘরের পেছনের জঙ্গলটা ধ্বংস করা হচ্ছে তা কি আমরা নীরবে শুধু দেখেই যাব? আমাদের কী করা উচিত?’ 

অভিনেত্রী এশা গুপ্তা টুইটারে প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, এটা অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের পরিবেশ কোন রাজনৈতিক ব্যাপার নয়। আমাদের বাচ্চাদের জন্য কিছু তো আমাদের রেখে যেতে হবে। শুধুমাত্র উড়ন্ত গাড়ি আর মেট্রোই কি তাদের জন্য সব?

এক অনুষ্ঠানে কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মা বলেছে, ‘সরকার যথেষ্ট বুদ্ধিমান, আমি নিশ্চিত সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। অবশ্যই মেট্রো তৈরি করতে হবে। কিন্তু কীভাবে গাছগুলো রক্ষা করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা সরকারের ভাবতে হবে।’

শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিবাদী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শান। তিনি বলেন, এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কিন্তু কারশেড নির্মাণের জন্য কেউ বিকল্প স্থানের চিন্তা করছেন না। আমরা কোন সমাধান পাচ্ছি না। অবশ্যই আমরা চাই না গাছগুলো কাটা হোক। এমনটা হওয়া উচিত নয়। আমাদের এটা এড়িয়ে যেতেই হবে।’