বন নিধন চলবে না

বন নিধন চলবে না

দেশের সব ধরনের বনাঞ্চল ও বনভূমি থেকে গাছ কাটার ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের নামে দেশের সব বনাঞ্চল ও বনভূমি থেকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত। এ ছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের গাছ কাটা ও লাগানোর সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। উচ্চ আদালতের এই রায় অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। শুধু সংরক্ষিত বনাঞ্চলেই নয়, বরং সারা দেশেই চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। বন ধ্বংসের অনিবার্য ফল পরিবেশ বিপর্যয় তো আছেই। গাছ ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক।

একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি হিসাব মতে আমাদের বনভূমি আছে মাত্র ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। বায়ু মন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষায় যে পরিমাণ গাছপালা থাকা দরকার তা না থাকার কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন ছয়টি দেশের একটি। তাই এখানে যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আগে তার পরিবেশগত প্রভাব বিচার করা জরুরি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। ক্রমেই উন্নত দেশ হওয়ার চেষ্টা করছি। ২০৪০ সালে যদি আমরা উন্নত দেশ হই, তখন কী আমরা দেশে কোনো বনভূমি দেখতে পাব? বনভূমিহীন সেই দেশে মানুষ কি সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারবে, মানুষ কি শ্বাস নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবে, সেই সংকটে পড়ার আগেই আমাদের বন ধ্বংস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।